utsanga
৭ জুন, ২০২০ | ২০:৫৯

আতিক হেলাল-এর ছড়া

tesst

হাতকাহন
কারো হাত থাকে ভরা, কারো হাত শূন্য
কারো হাতে হয় কাজ মহতী ও পুণ্য।

কারো হাতে সময় যে একেবারে অল্প
কারো হাতে বেশি, তারা করে গাল-গল্প।
কারো হাতে কাজ নাই, জীবনটা কষ্ট
কারো হাতে সময়টা হয় শুধু নষ্ট।

কারো কারো হাত থাকে মহাষড়যন্ত্রে
তান্ত্রিক হাত দেয় শুধু নানা মন্ত্রে।
কারো হাত করে পাপ, ডাকাতি ও হত্যা
কারো হাতে শেষ হয় মানবিক সত্তা।

কারো হাত ঢোকে শুধু পকেটের মধ্যে
কারো হাত নাম করে কবিতা বা গদ্যে।
কারো হাত ভালোবাসে কালো টাকা, ঘুষকে
কারো হাত হাঙ্গামা দেয় শুধু উস্কে।

কারো হাত ছিনতাই করে দিবা-রাত্রে
কারো হাত পড়ে শুধু অন্যের পাত্রে।
কারো হাতে দেখা যায় প্রকশ্যে অস্ত্র
কারো হাত খোলে শুধু শরীরের বস্ত্র।

কারো হাতে রঙতুলি, কারো হাত বাদ্যে
কারো হাতে জোর নেই, কুলায় না সাধ্যে।
কারো হাতে মজাদার হয় সব রান্না
হাতে চড় খেয়ে কেউ শুরু করে কান্না।

কারো হাত ব্যাটে-বলে পারে খেলা জিততে
কারো হাত ছুঁয়ে দিলে ভালো লাগে চিত্তে।

কেমন আছো নারী

কেমন আছো নারী?
কেমন আছে সংসার,
কেমন আছে বাড়ি?

সবখানে সুশাসন
রাখছো তো জারি?
শিষ্টতে কোমলতা,
বজ্জাতে ঝাড়ি?

জেগে আছো নারী?
জেগে ওঠো শিক্ষায়
না করুণা, ভিক্ষায়।

ডাক্তার, কৌশলী,
হবে নভোচারি
মঙ্গলে, চাঁদে গিয়ে
চালাবে না গাড়ি?

তোমরা না থাকো যদি,
আমরা কি পারি?

হাদীসের নামে

রাসুলের নাম নিয়ে
কতো কী যে দেখি!
কারও কথা শুনে ভাবি,
বলছে সে এ কী!

সুন্নত ও হাদীসেও
কতোশত ভাগ!
কারোটায় কেউ খুশি,
কেউ করে রাগ!

কারও দাবি, তারটাই
আসল আর ছহী
কেউ বলে, আমি জানি
কোন্ বাণী ওহী।

ইমামের এক বাণী
ভিন্নতা পীরে
জনতা হতাশ এত
ফ্যাসাদের ভিড়ে।

কম লোকই যায় দেখি
কুরানের কাছে
মূল বইয়ে সে বিষয়ে
কীবা লেখা আছে?

লোকের কথায় খুঁজি
কান নেওয়া চিল!
কান আছে, তবু কান
করেছি বাতিল!

হাদীসকে করে যারা
অপ-ব্যবহার
তাদেরকে বিশ্বাস
করবো না আর।

ঈদে

বারো মাসে দুইবার, দুই খুশির ঈদে
কারো বাড়ে যন্ত্রণা, বাড়ে কারও খিদে।
দাম বাড়ে, ঘাম বাড়ে, কেউ ফাটে জিদে
খাদ্য মজুত করে কেউ থাকে নিদে।
বাম্পারে ঝুলে কেউ হয়ে থাকে সিধে
ঈদে হানিমুনে কেউ যায় মাদ্রিদে।
পাবলিক পা বাড়ালে ওরা বলে, ‘ফী দে’
নেপথ্যে সুখ পায় রাজনীতিবিদে!

ডেঙ্গু-বচন

নমরুদ বুঝেছিলো, কী যাতনা মশাতে!
নাকে ঢুকে ফেলেছিলো করুণ এক দশাতে।

তারপর এই দেশে গত দুই দশকে
উৎপাৎ শুরু করে ‘এডিস’ এই মশকে।

ভয়াবহ রূপ নিলো দু’হাজার ঊনিশে
দ্রুত রোগী মারা যায়, মহা বড় খুনী সে।

মেয়রেরা বলে দেন, এটা মহামারী না
আমরা তোঘরে-ঘরে ধোঁয়া দিতে পারি না।

মন্ত্রীও পাড়ি দেন স্বদেশের বাইরে
জনতারা ডেঙ্গুর বিষ টের পাই রে।

অবশেষে অ্যাকশন, প্রস্তুত কামানও!
তারপরও ডেঙ্গুকে যায়না তো থামানো।

লোকাল বাসের যাত্রী

জ্যামের ঢাকায় আমরা যারা
লোকাল বাসের যাত্রী
জান-প্রাণ সব হাতে নিয়েই
ঝুলছি দিবস-রাত্রি।

সকাল ছ’টায় রওনা দিয়ে
রাত বারোটায় ফিরি
সেই কারণে হয়েছে আজ
চেহারার এই ছিরি।

প্রত্যেক দিন যুদ্ধ করে
বাসের হাতল ধরি
হরহামেশাই ভিড়ের চাপে
হুমড়ি খেয়ে পড়ি।

কনডাকটর ধমক মারে
হেলপারে দেয় গুঁতো
সবার পায়ে সাইজ হয়ে যায়
আমার পায়ের জুতো।

সিট পাওয়া তো দূরের কথা,
রড থাকে না ফাঁকা
অমন করে দাঁড়িয়ে থেকেই
শরীরটা হয় বাঁকা।

ছয় নম্বর, ডাবল ডেকার
‘চরিত্রহীন’ মিনি
এরা আমার সঙ্গী, এদের
হাড়ে হাড়েই চিনি।

পার্থক্য

কেউ বা বলে, মানুষেরই
পূর্বপুরুষ বানর
তাই মানুষের উপর নাকি
ভীষণ রকম টান ওর।

বুদ্ধি-বিবেক, চলাফেরায়
বানর খুবই তুখোড়
মানবজাতি দেখতে যেমন
তেমনই প্রায় মুখ ওর।

কিন্তু মানুষ অমানুষেও
হচ্ছে রূপান্তর যে
যখন-তখন অন্য রূপে
ওঠে ভীষণ গর্জে।

কিন্তু, বানর পাল্টায় না
সর্বদা রয় বানর
নিজের রূপ আর চরিত্রে সে
অটুট রাখে মান ওর।

বিষয়সমূহঃTags: