উৎসঙ্গ সৃজন চিন্তন
৪ আগস্ট, ২০২০ | ১৫:৫৪

আহমদ বাসির-এর গীতিকাব্য

tesst

(দ্বিতীয় পর্ব)

আমার দেশ

হায়রে আমার দেশ
নাইরে তোমার
দুঃখ গ্লানির শেষ
কার কাছে আজ
এই অনুযোগ
করব বলো পেশ ॥

সবাই যখন নিজের তরে
ঢুকছে আপন আপন ঘরে
কাটছে সময়
নিজের নিজের
আনন্দেতে বেশ ॥

তোমার নদী ফসল কাঁদে
বন-বনানী বেনের ফাঁদে
নির্যাতিতের আর্তনাদের
লাশের বোঝা তোমার কাঁধে।

সবাই তবু নির্বিকারে
আপন আপন কর্ম সারে
আমার মনের
মধ্যে পাকায়
কষ্টই শেষমেষ ॥

জাগবে আবার

জাগবে আবার হাজার হাজার বীর তীতুমীর
জাগবে অলি-গাউস-কুতুব আর কতো পীর ॥

বাংলাদেশের বুকে ওরা
জাগবেই একসাথে
নতুন সূর্য দেখবে মানুষ
নুতন কোনো প্রাতে
দেখবো নীচু নাইরে তখন আর কারো শির ॥

বিজয় তখন আসবে সবার ঘরে
বিভেদ বিদায় নিবে আপন পরে।

আমার দেশের বক্ষ থেকে
বিদায় নিবে ব্যথা
বিশ্ববাসী দেখবে কেমন
আমরা স্বাধীন চেতা
গড়বো এদেশ সবার সেরা শান্তির নীড় ॥

মসজিদ

মসজিদ আমাদের প্রাণকেন্দ্র
আমাদের ঠিকানা পবিত্র
শান্তির এ নন্দন প্রাঙ্গণ
আমাদের হৃদয়ের ও-চিত্র ॥

এই ঘরে আমাদের যাতায়াত রোজ
এখানেই পাওয়া যায় জীবনের খোঁজ
ছন্দিত সুন্দর এ অর্জন
সালাতে গঠিত চরিত্র ॥

এখানেই ঘটে মহাশক্তির সাথে
আমাদের মহালেনদেন
বুঝবে না রহস্য কোনোদিন, যারা
অন্ধ বধির অজ্ঞান।

এই ঘর থেকে আসে সু-মধুর সুর
তরঙ্গে ভেসে যায় দূর ও সুদূর
আঁধার বিদীর্ণ করে
আলোকিত করে এ ধরিত্র ॥

প্রেমের আগুন

আমার মন পোড়ে যার প্রেমের আগুনে
আমার প্রাণ ভরে তার ফুলের ফাগুনে ॥

তাঁর প্রেমে মন পুড়ে পুড়ে
সোনার মতো হয়রে খাঁটি
তাঁরা করুণা দয়া ছাড়া
হয় না জীবন পরিপাটি
আমার গান আসে তার নামেরই গুণে ॥

তাঁকেই আমি সবচে আমার
আপন মনে ভাবি
মানবজগৎ যাঁকে ভুলে
খাচ্ছে কেবল খাবি।

তাঁর বানানো তুমি আমি
তাঁর বানানো পশু-পাখি
যা দেখো আর যা দেখো না
দৃষ্টি খুলে তোমার আঁখি
আমার সুর ওঠে নাম যখনই শোনে ॥

জীবনটা

জীবনটা অভিনয় সম নয় মেকি
তবু কতো অভিনয় করো তাই দেখি ॥

জীবনকে জীবনের দাও না সে রঙ
নাটকের ছলাকলা করো সারাক্ষণ
এই নিয়ে কতো তুমি করো লেখালেখি ॥

ভাবনাতে নাই যদি জীবনের ভাব
বুঝবে না বদি আর নেকির স্বভাব।

জ্বলে যদি নাই ওঠে গভীর সে জ্বালা
গলদেশে ঝুলবে না জীবনের মালা
তাই বলি, ভাবো মন, খুঁজে নাও নেকি ॥

বিজয় দূরে নয়

বিজয় বেশি নয়রে দূরে
বিজয় বেশি দূরে নয়
মন থেকে তোর যাক হয়ে দূর
দুর্ভাবনা ও সংশয় ॥

বিজয় কতো দূরে আছে
জানতে যারা চায়
বিজয় তাদের খুব নিকটে
আসছে পায়ে পায়
পালিয়ে ঠিক যাবে দূরে
সকল রকম পরাজয় ॥

বাতিল যাবে ভেঙে চুরে
ব্ল্যাকহোলের ঐ ভগ্নকূপে
থাকবে না এই বীৎলামী তার
খুঁজলে পাবে ভস্ম রূপে।

আসছে বিজয় ওই তো ওই
আয়রে বিজয় আয়
আকাশ বাতাস সেই বিজয়ের
আনন্দ গান গায়
মিথ্যা দেখো যায় পালিয়ে
দু’চোখে তার ভীষণ ভয় ॥

বাংলাদেশের কষ্ট

বাংলাদেশের কষ্ট বোঝার মানুষ কই
চারদিকে তো ফুটছে দেদার কথার খই ॥

‘কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’
সেই ছেলে মেয়েদের দেখা পাবো কবে
কানের কাছে বাজছে শুধু ওই হইচই ॥

জয়ী হতে চাচ্ছে সবাই
কথার প্রতিযোগিতায়
কথায় কথায় মিথ্যা বলার
পক্ষে শেষে দিচ্ছে সায়।

কাজের তো কথা নেই কথাদের ভীড়ে
পাখিরাও নেই তাই পাখিদের নীড়ে
জনপদের যন্ত্রণার এই সবুজ বই ॥

বদল

বদলাতে হয় যদি
বদলাও আত্মা
তগুতের বাসাবাড়ি
হয়ে যদি এতোদিন
থেকেছে নাপাক তা
তবে আর দেরি নয়
করো আজ পাক তা ॥

বদলাতে চাও যদি বদলাও মন
উপড়াও ভ্রান্তির বাসাবাড়ি বন
নিশ্চিত করো তাই
বদলেই যাক তা ॥

দিন বদলের আগে
বদলাও অন্তর
ছুঁড়ে ফেলে দাও সব
তন্তর মন্তর।

তাওহীদ সাধনায় কাটো অনুক্ষণ
খোঁজো তাঁকে যাঁর হাতে জীবন-মরণ
শয়তানে করে দাও
পুরোই লা-পাত্তা ॥

কোরআনের জ্ঞান

কোরআনের জ্ঞানে মন করে না উজালা
ওইসব অন্তরে পড়েছে কি তালা ॥

কতোকিছু ভাবে, ছুটে
কতোকিছু খুজঁতে
আল্লাহপাকের বাণী
ঠিকঠাক বুঝতে
অন্তরে অনুভব করে না সে জ্বালা ॥

অতুলন সুন্দর সন্দেহাতীত
সেই বাণী বোঝে না রে বোকা
অন্তরে খিল মেরে নিজেরেই নিজে
দিয়ে যায় অবিরত ধোকাঁ।

আঁধারেই বুঁদ হয়ে
ওরা বুঝি থাকবে
খুলবে না তালা-দোর
এভাবেই রাখবে
খুজঁবে না ওরা বুঝি আলোকের মালা ॥

ঈদের খুশি

আয়রে খুশি আয়
ঈদের খুশি আয়
আমার ডানে বাঁয়
আয়রে খুশি আয়
ঈদের খুশি আয়
আমার আঙিনায়
সেই খুশির খবর এই পৃথিবীর
সবাই যেনো পায় ॥

মানবজাতির এই বেদনায়
কোথায় থাকিস কোন অজানায়
সেই গোপন থেকে বের হয়ে আয়
দে না এবার সায় ॥

আমার মতো সবাই আছে
তোরই প্রতীক্ষায়
আসবি কবে চড়েরে তুই
ময়ূরপক্ষী নায়।

ঝড়ের পাখায় ভর করে আয়
সত্যকে মর্ম-র করে আয়
তোর আসার আগেই যাক পালিয়ে
নাখোশ নসীব হায় ॥

বিষয়সমূহঃTags: