উৎসঙ্গ সৃজন চিন্তন
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১২:৩৩

আহমদ বাসির-এর গীতিকাব্য (তৃতীয় পর্ব)

tesst

আসল কথা

আসল কথা শুনলে যাদের
বক্ষে লাগে ঘা
তেড়েমেরে আসে তারা
নাচিয়ে হাত পা ॥

ওদের শুধু অন্ধকারই ভালো
আলোর ধারা লাগে ওদের কালো
যেনো ওরা হুতুমপেঁচা
চামচিকাদের ছা ॥

জনেপদে জনে জনে
নিঠুর ওদের আচরণে
বনের যতো পশুরাও
অবাক হয়ে কাঁদে বনে।

যক্ষপুরীর রাক্ষস ওদের পিতা
খোক্কস হলো ওদের সবার মিতা
সেই কারণে সত্য ওরা
সইতে পারে না ॥

বিজয়

বিজয় তো আমাদের চির গৌরব
সুবাসিত সুন্দর ফুল সৌরভ ॥

খুলে দিব প্রাণ
গেয়ে যাব গান আজ বিজয়ের
হেসে দিব জান
রেখে যাব মান আজ হৃদয়ের
বিজয় সে বেঁচে থাক
পরাজয় পুড়ে যাক জ্বলে রৌরব ॥

বিজয়ের সাথে আছে বেহেশত যুক্ত
চির বিজয়ের পথে মানুষেরা মুক্ত।

ভুলে যাবো ভুল
তুলে যাবো মূল আজ নিদয়ের
হয়ে যাবো পার
দূর পারাবার আজ নিভয়ের
বিজয়ের কারুকাজ
সবদিকে হবে আজ মধু মৌসব ॥

ভাসানি

জনতার নেতা মানি
মাওলানা ভাসানি
মজলুম নেতা মানি
মাওলানা ভাসানি ॥

মেনেছিল নেতা যাকে বঞ্চিতজন
জেনেছিল খাঁটি যাকে পীরের মতন
তাঁর হাতে হতো কতো
মুশকিল আসানই ॥

তাঁর সেই বিখ্যাত খামুশ ধ্বনি
ঘরে ঘরে আবার আজ উঠুক রণি।

হাসে আজো শোষকের কুৎসিত দাঁত
নেমে আসে জনপদে অমানিশা রাত
কলিজা চিবায় কতো
পাষাণ আর পাষাণী ॥

নরপশুরা

মানুষের কাটা মাথা
কাটা হাত পা
বুক ফাঁড়া দেহ ছেঁড়া
বীভৎসতা
জঘণ্য বণ্য হিংস্র হায়েনার কাজ
দেখালে তোমরা যারা আরাকানে আজ
ভোবে না বাতাস কভু
বদলাবে না ॥

দেখালে তোমরা নরপশুরা কেমন
দেখে কাঁপে শিহরিত মানবের মন
প্রতিশোধ ছাড়া কভু
শুকাবে না ঘা ॥

তোমাদের মনে কোনো মানুষের বাসও
কোনোদিন ছিলো বলে মনে হয় না
তোমাদের ঘৃণা করে তৃণলতা ঘাসও
এত হীন পশু কোনো বনে হয় না।

রোহিঙ্গা জনপদে পিশাচের মতো
কলিজা বিদীর্ণ করা কুৎসিত ক্ষত
বানিয়েছো তোমরা যে
ক্ষমা পাবে না ॥

মগমুলুকে

আরাকানে মরছে আমার বোন ও ভাই
মিয়ানমারে মরছে আমার বোন ও ভাই
আর দেরি নয় চলুন অভিযানে যাই ॥

মগমুলুকে গড়তে হবে মুক্ত জনপদ
হতেই হবে এই ব্যাপারে সবাইকে একমত
মানবজাতির মান বাঁচাতে
এর কোনো বিকল্প নাই ॥

মানুষ যদি জানে নিজের আসল পরিচয়
তাইলে কেনো বসে বসে করবে সময় ক্ষয়।

জগতে হবে উঠতে হবে ছুটতে হবে আজ
বুঝতে হবে এখন সবার এটাই ফরজ কাজ
এই কথাটা সবাইকে আজ বলুন তাই
নাফ নদীটা পার হয়ে আজ চলুন তাই ॥

আরাকান

রোহিঙ্গা আরাকান না হলে স্বাধীন
মগেরা মুল্লুকে নাচবে তাধিন ॥

এরা তো রক্তপায়ী প্রাণীদের চেয়ে
এগিয়ে গিয়েছে লাল রক্তে নেয়ে
এদেরকে প্রতিরোধে এগিয়ে পা দিন ॥

যাদের উপমা কোনো অভিধানে নাই
বার্মার বুকে তারা নিয়ে আছে ঠাঁই।

এদের কে ছেড়ে দিলে পৃথিবীর হাসি
মুছে যাবে, হেসে যাবে সর্বনাশী
এদের বক্ষে তাই চরম ঘা দিন ॥

সংশয়

যাদের পরাণে আছে দ্বিধা-সংশয়
মৃতের চাইতে তারা বেশি কিছু নয় ॥

জীবনের পথ ছেড়ে তারা যায় দূরে
পথহীন প্রান্তরে মরে ঘুরে ঘুরে
ভয় এসে জয় করে তাদের হৃদয় ॥

দ্বিধার দেয়াল যারা ভেঙেছে
সংশয় ঝেড়ে যারা ফেলেছে
সত্যের রঙে তারা রেঙেছে
নির্ভয় বাহু তারা মেলেছে।

জীবনের গান যারা আত্মার সুরে
গায় তারা সাড়া তোলে অলোকপুরে
মহাকাল গেয়ে যায় তাদের বিজয় ॥

এই দেশ

প্রাণময় গানময় আমাদের এই দেশ
রূপ ও অরূপ যতো কাথাদের নেই শেষ ॥

আছে কতো ইতিহাস
দূর সে সুদূর
অতীত থেকে
আজো হাতছানি দেয়
কতো যে শহীদ
রক্ত মেখে
জেগে থাকে জনপদে অতীতের সেই বেশ ॥

ঈমান এনেছে এ মাটির বুকে
প্রবল প্রাণো”ছ¡াস
ধ্বংস হয়েছে মানুষের যারা
চেয়েছে সর্বনাশ।

আজো কতো গর্বিত
মানুষের মাথা
হয় না নত
কত শত শত জন
লড়ে আমরণ
ক্ষত বিক্ষত
দুঃখ ও হতাশার তবু কোনো নেই লেশ ॥

সুন্দর

প্রশংসা সবই যে তাঁর
প্রশংসা সবই যে তাঁর
প্রশংসা সবই যে তাঁর
যিনি সুন্দর আর
সব সুন্দর যার
দিয়েছেন প্রাণ যিনি
দিলেন আহার ॥

সেই সুন্দরে যদি চিনতে না পারি
দায়ভার থেকে যাবে সব আমারই
যিনি অসীম অপার
নাই এপার ওপার
দেখালেন পথ যিনি
সরল সাঁচার।

জীবনের সুখ দুখ হাসি ক্রন্দন
ছন্দিত স্পন্দন যতো নন্দন
আছে যতো আল্পনা যতো আলাপন
করুণার ধারা তাঁর প্রীতি বন্ধন।

সেই সুন্দরে মন করে মাখামাখি
কোকিলের মতো প্রাণ খুলে ওঠে ডাকি
আল্লাহ আকবার
আল্লাহু আকবার
করেছেন দয়া যিনি
সত্যই সার ॥

ভূ-স্বর্গে

ভূ-স্বর্গে দাবানল জ্বলছে
এ অনল তোমাকে কি বলছে
কী সে কথা বলছে ॥

ভূস্বর্গে বারুদের গন্ধ
বিশ^ বিবেক আছে অন্ধ
কেনো এতো নিপীড়ন চলছে
কে সেখানে কাকে আজ দলছে
কেনো বলো দলছে ॥

ভূস্বর্গ বুলেটের বন্যায়
কেনো ভরে যাচ্ছে
আগ্রাসী দানবের তান্ডব
লীলা কেনো নাচ্ছে?

ভূস্বর্গে মানুষকে বন্দি
করেছে সে মুশরেকী ফন্দি
পরাধীনতার এই কুফল আজ ফলছে
মুসলিম না হলে কি দলছে
ওদেরকে দলছে ??

বিষয়সমূহঃTags:

পূর্বের সংবাদ

«

পরের সংবাদ

»