কাজী নজরুল ইসলাম, সাজজাদ হোসাইন খান, জয়নুল আবেদীন আজাদ, আসাদ বিন হাফিজ, ফারুক নওয়াজ, ইসমাঈল হোসেন দিনাজী, নাসির হেলাল, মহিবুর রহিম, রবিউল হুসাইন, আ.ফ.ম. মোদাচ্ছের আলী, আবু তাহের বেলাল, আফসার নিজাম, নজরুল ইসলাম শান্তু, রেদওয়ানুল হক, তাজ ইসলাম, নাছির বিন ইব্রাহীম, মুস্তাফা ইসলাহী, বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট, নোমান সাদীক, মনিরুলহাসান, আব্দুল আজিজ
৩১ মে, ২০১৯ | ০৫:৩০

ঈদ সংখ্যা ২০১৯

tesst

ঈদ মোবারক
কাজী নজরুল ইসলাম

শত যোজনের কত মরুভূমি পারায়ে গো,
কত বালু চরে কত আঁখি-ধারা ঝরায়ে গো,
বরষের পরে আসিল ঈদ!
ভূখারীর দ্বারে সওগাত বয়ে রিজওয়ানের,
কন্টক-বনে আশ্বাস এনে গুল-বাগের,
সাকীরে ”জা’মের” দিলে তাগিদ!

খুশীর পাপিয়া পিউ পিউ গাহে দিগ্বিদিক,
বধু-জাগে আজ নিশীথ-বাসরে নির্নিমিখ্।
কোথা ফুলদানী, কাঁদিছে ফুল!
সুদূর প্রবাসে ঘুম নাহি আসে কার সখার,
মনে পড়ে শুধু সোঁদা সোঁদা বাস এলো খোঁপার,
আকুল কবরী উলঝলুল্!!

ওগো কা’ল সাঁঝে দ্বিতীয়া চাঁদের ইশারা কোন্
মুজদা এনেছে, সুখে ডগমগ মুকুলী মন!
আশাবরী-সুরে ঝুরে সানাই।
আতর সুবাসে কাতর হ’ল গো পাথর-দিল্,
দিলে দিলে আজ বন্ধকী দেনা—-নাই দলীল,
কবুলিয়াতের নাই বালাই।।

আজিকে এজিদে হাসেনে হোসেনে গলাগলি,
দোজখে বেহেশ্তে ফুলে ও আগুনে ঢলাঢলি,
শিরীঁ ফরহাদে জড়াজড়ি।
সাপিনীর মত বেঁধেছে লায়লি কায়েসে গো,
বাহুর বন্ধে চোখ বূঁজে বঁধু আয়েসে গো।
গালে গালে চুমু গড়াগড়ি।।

দাউ দাউ জ্বলে আজি স্ফুর্তির জাহান্নাম
শয়তান আজ বেহেশ্তে বিলায় শরাব-জাম,
দুশমন দোস্ত্ এক-জামাত!
আজি আরাফাত্-ময়দান পাতা গাঁয়ে গাঁয়ে,
কোলাকুলি করে বাদশা-ফকীরে ভায়ে ভায়ে,
কা’বা ধ’রে নাচে ”লাত্-মানাত”।।

আজি ইসলামী-ডঙ্কা গরজে ভরি’ জাহান,
নাই বড় ছোট–সকল মানুষ এক সমান,
রাজা প্রজা নয় কারো কেহ।
কে আমীর তুমি নওয়াব বাদশা বালাখানায়?
সকল কালের কলঙ্ক তুমি: জাগালে হায়
ইসলামে তুমি সন্দেহ।।

ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই,
সুখ-দুখ সম-ভাগ ক’রে নেব সকলে ভাই,
নাই অধিকার সঞ্চয়ের।
কারো অখিঁ-জলে কারো ঝাড়ে কিরে জ্বলিবেদীপ?
দু’জনার হবে বুলন্দ-নসিব, লাখে লাখে হবে বদনসিব?
এ নহে বিধান ইসলামের।।

ঈদ্-অল-ফিতর আনিয়াছে তাই নব বিধান,
ওগো সঞ্চয়ী, উদ্বৃত্ত যা করিবে দান,
ক্ষুধার অন্ন হোক তোমার!
ভোগের পিয়ালা উপচায়ে পড়ে তব হাতে,
তৃষ্ণাতুরের হিসসা আছে ও পিয়ালাতে,
দিয়া ভোগ কর, বীর, দেদারঅঅ

বুক খালি ক’রে আপনারে আজ দাও জাকাত,
ক’রো না হিসাবী, আজি হিসাবের অঙ্কপাত!
একদিন কর ভূল হিসাব
দিলে দিলে আজ খুনসুড়ি করে দিললগী,
আজিকে ছায়েলা-লায়েলা-চুমায় লাল যোগী!
জামশেদ-বেচে চায় শরাব।।

পথে পথে আজ হাঁকিব, বন্ধু,
ঈদ-মোবারক! আসসালাম!
ঠোঁটে ঠোঁটে আজ বিলাব শিরনী ফুল-কালাম!
বিলিয়ে দেওয়ার আজিকে ঈদ।
আমার দানের অনুরাগে-রাঙা ঈদগা’ রে!
সকলের হাতে দিয়ে দিয়ে আজ আপনারে—
দেহ নয়, দিল হবে শহীদ।।

কলিকাতা
১৯শে চৈত্র, ১৩৩৩

ঈদ আসে ঈদ যায়
সাজজাদ হোসাইন খান

ঈদ আসে ঈদ যায় ঈদ থাকে ঝুলে
হৃদয়ের রেণু মেখে গোলাপের ফুলে।

আকাশের ছাদ ভেঙে ঈদ উঠে হেসে
ঈদ হাঁটে তারাদের গাঁও ঘেঁষে ঘেঁষে।
জাফরানি খুশবুতে ঈদ ঝুরঝুর
ঘরে ঘরে নাচে তাই খুশির দুপুর।

ঈদ আসে ঈদ যায় ঈদ অফুরান
ফজরের ঘুম হাওয়া দোয়েলের গান।
রঙমাখা প্রজাপতি জোনাকির বাতি
ঈদ যেন সাগরের ঢেউ মাতামাতি

সূর্যের দড়ি বেয়ে ঈদ নামে নিচে
উম উম্ ভালবাসা আসে পিছে পিছে।
সম্প্রীতি বন্ধন ঈদ তার নাম
স্নেহের সবুজ খামে মধু আনজাম।

লাল ফিতারই সাজ
জয়নুল আবেদীন আজাদ

রমজানের ঐ রোজার শেষে
চাঁদ-তারকার উজল বেশে
আসলো আবার ঈদ,
ঈদ যে খুকুর পরম মিতা
সাজতে যে চাই জরিন ফিতা
তাই ধরেছে জিদ।

জিদের পোশাক নয়তো ভালো
মন হয়ে যায় অনেক কালো
মা বলেছেন আজ,
তাইতো খুকু মিষ্টি হেসে
মেনে নিল অবশেষে
লাল ফিতারই সাজ।


রাত পোহালে ঈদ
আসাদ বিন হাফিজ

রাত পোহালে ঈদ
তাড়াও চোখের নিঁদ
খুশির ছটা বুকে নিয়ে
দূর করে দাও জিদ।

আজকে বাসো ভালো
তাড়াও মনের কালো
মিষ্টি চাঁদের হাসি দেখে
হৃদয় করো আলো।

নিজকে নিজে গড়ো
বিশ্বটাকে পড়ো
ঈদের খুশির খুশবু মেখে
হৃদয় করো বড়ো।

জন্মভূমির ঈদ
ফারুক নওয়াজ

সূর্য বিলায় আলো আমায়, আঁধার ঘোচে তাতে
স্নিগ্ধ-কোমল চাঁদের আলোয় মনটা নাচে রাতে।
ঝিকমিকানো জোনাকজ্বলা, ঝিনিক ঝিনিক ঝিঁঝিঁ
ঘুম এনে দেয়, স্বপ্নে আমি ঝুমদেয়াতে ভিজি।
ভোরটি হলে পাখির গানে দোরটি খুলে দাঁড়াই-
সবুজ মাঠের হাতছানিতে হাত দু’খানা বাড়াই।
মনটা তখন যায় হারিয়ে মানতে নারাজ মানা
পাখির মতো মনের তখন যায় গজিয়ে ডানা।
মাঠ পেরিয়ে নীলচে পাহাড়, মেঘ ছুঁয়েছে চূড়ো
ঠিক মনে হয় পাহাড় তো নয় আদ্যিকালের বুড়ো।
ডাক শোনা যায় নীল সাগরের, ঢেউরা ওঠে ফুলে
নোনতা পানির গন্ধ ভাসে হাওয়ায় দুলে দুলে।
এই তো আমার দেশরে আহা! মায়ায় মায়ায় মাখা
শীতল মাটির প্রাণের ছোঁয়া ছায়ায় ছায়ায় আঁকা।
ভাইবোনেরা মিলেমিশেই এই মাটিতে থাকি-
রাতটি এলে ঘুমিয়ে চোখে স্বপ্ন ধরে রাখি।
হাসিখুশির, স্বপ্ন দেখার প্রিয় স্বদেশভূমি-
বছর শেষে ঈদের খুশির বার্তা আনো তুমি।
সেই খুশিতে সবাই মাতি হারাই মনে-মনে
প্রজাপতির দুলদুলুনি ফুলের বনে বনে।
সবাই এদিন এক হয়ে যাই, কেউ থাকি না দু’টি!
লক্ষ গোলাপ সবাই তখন একটি বোঁটায় ফুটি।


আনতে হবেই চাঁদ
ইসমাঈল হোসেন দিনাজী

ঈদের খুশি কোথায় গেল কোথায় ঈদের চাঁদ
চতুর্দিকে ছড়িয়ে যেন ক্লান্তি অবসাদ।
দখিন হাওয়ায় বেসুর বাজে গায় না পাখি গান
নিঝুম কালো দীঘল রাতের হয় না অবসান।
জালিমশাহির কয়েদখানায় ঈদের হেলাল বন্দী
কালোর সঙ্গে আলোর কভু হয় না তো ভাই সন্ধি।
আঁধার এবং আলোর মাঝে চলছে তুমুল যুদ্ধ,
চাঁদ-সেতারা কার ইশারায় বিনা দোষেই রুদ্ধ?
গোমড়ামুখো আকাশকোণে মেঘের আনাগোনা
পায় না খুঁজে ঈদের খুশি নতুন চাঁদের সোনা।
নতুন জামা নতুন টুপি আতর আতর গন্ধ
সবই আছে তবু যেন স্তব্ধ খুশির ছন্দ!
ঈদের খুশি উড়ছে দেখ প্রজাপতির ডানায়
ঈদগাহে আজ খুশির মেলা চাঁদ ছাড়া কি মানায়?
খুশির দিনে সবার মাঝে চাঁদটা নেমে আসুক
সবকে ভালোবাসুক সকল দুঃখজ্বরা নাশুক।
ভাঙতে হবে জেলের তালা আনতে হবেই চাঁদ
চলতে পথে দলতে হবেই পাহাড় সমান বাঁধ।

ঈদের খুশি
নাসির হেলাল

রাত থম্ থম্ রাতের শেষে সকাল যখন হবে
মনের মাঝে ঈদের খুশি জমাট বেঁধে রবে।
ঈদের খুশি ঈদের খুশি বাঁকা চাঁদের হাসি
ফিরনি কাবাব পায়েস সেমাই দেব রাশি রাশি।
ঈদের খুশি সকাল বিকাল ঈদের খুশি রাতে
নতুন জামা নতুন কাপড় পরবো সবাই প্রাতে।
ঈদের খুশি বাড়ি বাড়ি ঈদের খুশি মাঠে
ঈদের খুশি শহর গঞ্জে ঈদের খুশি হাটে।
ঈদের খুশি ছেলে বুড়োর ঈদের খুশি নানার
ঈদের খুশি গরিব দুঃখীর দুঃখ কথা জানার।
ঈদের খুশি উদার আকাশ ঈদের খুশি দানের
ঈদের খুশি দুহাত ভরে উচ্ছল যত প্রাণের।

ঈদের প্রতীক্ষা
মহিবুর রহিম

কোন সৌন্দর্যই আর এত সুর আকর্ষণ বহন কওে না
যেমনটা দেখা যায় ঈদেও চাঁদের ক্ষীণ আলোক প্রভায়
এভাবে কতনা দিন অবিরত আসে আর যায়
ঈদেও দিনের মতো রঙে রূপেতীব্রতর হয় না কোনটাই

কত কিছু ক্ষয়ে যায় ঈদেও প্রতীক্ষা নিয়ে মন জেগে থাকে
একটি বছর শেষে আসে ঈদ উচ্ছ্বসিত চাঁদের সংকেতে
কিংবা কোটি হৃদয়ের স্বপ্ন নিয়ে সহসাই নামে পৃথিবীতে
অপার্থিব আনন্দের দায়ভার মানুষেরে দিতে

হয়তোবা তাই অন্তর্গত প¬াবনের ধারা নামে সব জনপদে
আকাশের সংগোপন রঙগুলো জন্ম নেয় মানুষের মনে
প্রাচীন বৃক্ষের সুর ফিরে আসে অনাদি গানের অভিধানে
একটি দিনকে দেয় বিশেষ মহিমা তার সুরে আর ঘ্রাণে

ঈদ এলে যেন সব ফুলের পাঁপড়ি পায় নিজের স্নিগ্ধতা
ঈদ এলে রাত্রি পায় সমাকীর্ণ প্রকৃতির নম্র সজীবতা
দিবসের অঙ্গশোভা হয়ে ওঠে আনন্দের সকল কবিতা
বুভুক্ষের বুক থেকে নেমে যায় হাহাকার চিতা !

ঈদের দিনেও
রবিউল হুসাইন

আজ আমাদের খুশির ঈদ
আনন্দের এই দিনেতেও তাই
দু’চোখে আসে না নিঁদ
সারাটি রাত জেগে থাকি
তবু কিছুই ভেবে না পাই
এমন সুখটি কোথায় রাখি
ঈদগাহতে নামাজ পড়ে
সবার সাথে কোলাকুলি
শেষে যাই ময়দান ছেড়ে
যাত্রা করি বাড়িমুখী
বড়দের দেই সালাম নেই পদধূলি
আর দেয়ালে মায়ের মুখ দেখি
আমার মতো দুঃখী জন হায়
কেন অসহায় আর হতভাগা
মা-হারানো জীবন ধারায়
মায়ের কথা মনে করে
ঈদের দিনেও এই অভাগা
চোখের জলে কেঁদে মরে ।
ঈদের খুশি আনে চাঁদ
শিউল মনজুর
চাঁদের হাসি মধুরহাসি
ছড়ায় সুখ রাশি রাশি।
চাঁদের আলো
খুউব ভালো।
অন্ধকারে জ্বালায় বাতি
চাঁদ মামা পথের সাথী।
চাঁদের আলোয় পরি আসে
বাগান জুড়ে জোনাক হাসে।
ঈদের খুশি আনে চাঁদ
মুছে দেয় মনের খাদ।
ঈদের দিনে সবার মুখে
চাঁদের হাসি পাই,
ঈদের দিনে ঘুরে ঘুরে
বন্ধুর বাড়ি যাই।

ঈদ মানে তো
আ.ফ.ম. মোদাচ্ছের আলী

ঈদ মানেতো নতুন জামা
নতুন জুতো নতুন আশা,
ঈদ মানেতো সবার মাঝে
দাও ছড়িয়ে ভালোবাসা।
ঈদ মানেতো নয় শুধু তাই
এক পরিবার সুখ
ঈদ মানেতো দাও ঘুচিয়ে
অন্য সবার দুখ।
ঈদ মানেতো দেশের তরে
ভালোবাসার পণ
ঈদ মানে তো করবো জয় আজ
সব মানুষের মন।
ঈদের জামা দিলেন মামা
নুরুন্নাহার শিরীন
খুকুর মামা আঁকেন ভালো।
কাক আঁকতে ভাবেন- কাকটা কেন কালো?
তাইতো তিনি সাদা পাতার বুকে
রঙিন সে এক কাক আঁকেন ঝুঁকে।
দেখতে সে হয় মস্ত যেন প্যাঁচা।
দেখেই খুকু বলে- ও মামা, কিনে আনো খাঁচা।
খাঁচা কিনতে মামা গেলেন হাটে।
হাটে গিয়ে চড়ে বসেন খাটে।
দোকানিরা যতই বলে নামেন
ততই মামা খেপে বলেন- থামেন ভাই থামেন।
অবশেষে দোকান থেকে একটা লাল জামা
খুকুর জন্য কিনে আনেন মামা।
আকাশে তখন ঈদের বাঁকা চাঁদ।
আনন্দে খুকু ধরে মামার হাত।
ছবির প্যাঁচা পড়েই থাকে পাতার বুকে।
আঁকাঝোঁকা ভুলে মামা সেমাই খান সুখে।

ঈদের লিরিক
আবু তাহের বেলাল

বিমল খুশীর ঢেউ খেলে যাক
কদম কেয়ার বনে,
মন হয়ে যাক দুধের বাটি
বুক হয়ে যাক শীতলপাটি
ভালোবাসা জমাট বাঁধুক
নিবিড় আলাপনে।।

বিষাদ গীতি গাইতে মানা
সুরের পাখি মেলুক ডানা,
অনুরাগের আলিঙ্গনে-
জোয়ার জাগুক মনে।।

সাম্য প্রীতির সুগন্ধিতে
সমাজ হলে সুরভীত,
ঈদ আয়োজন হয়যে সফল
হয় জনপদ পুলকিত।…

বে ইনসাফের বদলাতে চাই
ন্যায় ও নীতির পৃথিবীটাই,
ত্যাগের চেরাগ নাও জ্বেলে নাও
মনের আঁধার কোণে।।

শখ পূরণের ঈদ
আফসার নিজাম

সন্ধ্যা রাতে দেখবে যেদিন হাসলো নতুন চাঁদ
বাড়িয়ে দিও বন্ধু তুমি ছোট্ট দুটি হাত

হাতের ভেতর ছড়ায় দেবো লক্ষ তারার ফুল
ফুলগুলোকে বিলিয়ে দিতে করবে না তো ভুল

ভুল করো না বন্ধু তুমি দিও সবার হক
ফুলের ভেতর লুকিয়ে আছে অনেক মনের শখ

শখ পুরনের আসলো ঈদের দিন
উঠলো হেসে আদম-পরী-জ্বীন।

মহামিলনের ঈদ
নজরুল ইসলাম শান্তু

পৃথিবীর বুকে মুসলিম জাতি
ভেঙেছে পাপের পাহাড়,
ঈদের খুশিতে রমজান শেষে
ধরেছে দিনের আহার।

মক্কা এবং মদিনার পরে
বিশ্বের যতো দেশ,
ঈদের জামাতে আল্লাহর পথে
গড়ে এক পরিবেশ।

ঈদটা সবার
রেদওয়ানুল হক

ঈদটা সবার জন্য হোক
কালো-ধলোর বিভেদ ভেঙে
চাঁদটা হেসে উঠুক রেঙে
সবাই সবার অতি প্রিয়
মানুষ বলে গণ্য হোক।

যেই ঘরেতে নেইকো খাবার
অসুস্থতায় ভুগছে আবার
তার ঘরেও ঝরুক রহম
কোরমা-পোলাও অন্ন হোক।

পথের ধারে যেই শিশুটি
উদোম দেহ নেই কিছুটি
তার গায়েও নতুন জামা
জড়িয়ে প্রসন্ন হোক।

যেই মানুষটা পলে পলে
স্বজন হারার শোকে জ্বলে
তার কাছেও ঈদটা এসে
অতুল ও অনন্য হোক।

ঈদটা সবার জন্য হোক
ধন্য চির ধন্য হোক।


আজ ঈদ ভালোবাসার পবিত্র দিন
তাজ ইসলাম

বাঁশবাগানে একটা বাঁকা ঈদ হেসে উঠতেই
লাফিয়ে উঠল একদল শিশু কিশোর উল্লাস
জোয়ারের পানিতে লাফিয়ে উঠা পুঁটি মলার মত।
ঈদ! ঈদ! ঈদ!
ঈদ ছুটে বেড়াচ্ছে মসজিদের সামনে,
বাড়ির আঙিনায় শিশু কিশোর চঞ্চল পায়ে।
সন্ধায় চায়ের কাপে খোশগল্পরত ঈদ,
শহর ছেড়ে গ্রামমুখি চাঁনরাত ঈদ
মসজিদের মাইক থেকে দ্রুতবেগে উড়ে যায় ঈদ কানে কানে।

হিংসা সমাহিত।
রাগ- ক্রোধ-ক্ষোভ,
জিগাংসা, অহমিকা সুনামীর স্রোতে ভাসে ভালোবাসার জোয়ারে।

স্বামী স্ত্রীর গিট্টুলাগা অভিমানটা এখন নিখোঁজ।
এই মুহুর্তে খোকার দাদু দাদু গোলাবর্ষনে দাদুর মন থেকে নাই হয়ে গেছে সযতনে পোষে রাখা দাদার বিয়োগ বৃক্ষ।
বেদনার দাগগুলো পুঁতপবিত্র আনন্দ রাবারে মুছতে মুছতে স্বর্গীয় ভোরের আলোয় স্পষ্ট হয়ে উঠে একেকটি ঈদখানা।
মুসলিম মিল্লাত এক আকাশের তারার মত তারা একতার মন্ত্রে এখন বিশ্ব ঈদখানায় সবাই ভাই ভাই।
কাতার বন্দি রক্তাক্ত আফগানিস্তান,ফিলিস্তিন,
বিপর্যস্ত রোহিঙ্গা,
নির্যাতিত উইঘুর,
ক্ষত বিক্ষত ইরাক,লিবিয়া।
ভাইয়ে ভাইয়ে হানাহানিরত সিরিয়ানরাও ঈদের আনন্দ স্রোতে গোসল সেরে ঈদখানামুখী এখন।
বদ্ধরুমে একটা সুইচ টিপলেই ভরে যাওয়া আলোর ন্যায়
বাঁশবাগানে একটা বাঁকা ঈদ উঁকি দিতেই
শিশুর সরল হাসির মত খল খল করে হেসে উঠে সমগ্র পৃথিবী।
আজ ঈদ।
দুঃখ বেদনা ভুলে
শুধু আনন্দ আর ভালোবাসার পবিত্র দিন।

নেই আমি আর বোকা
নাছির বিন ইব্রাহীম

ঈদ এসেছে সবার মনে খুশির জোয়ার নিয়ে
দস্যি ছেলে ভাবছে নেবে টাকা ফের ছিনিয়ে
খালা ফুফু ছোট মামা
দিক না যত নতুন জামা
টাকা ছাড়া মন ভরে কি ঈদে,
কে দেবেনা টাকা আবার ধরলে খোকা জিদে?

দিতেই হবে টাকা,বললো ছোট কাকা
নইলে তুমি নতুন জামা করবে ধুলোয় মাখা,
ছোট কাকা বন্ধু খোকার
বুদ্ধিও আঁটেন বেশ,
খোকার ভাগের টাকা নিয়ে ঘুরবে সারা দেশ।

খোকা এবার ভাবছে মনে মনে
ঈদের জমা টাকা নিয়ে ঘুরবে জনে জনে,
নতুন জুতো পাইনি যারা, ময়লা জামা পরে
বন্ধুরা সব মিলে যাবে তাদের ঘরে ঘরে,

ঈদের টাকা বিলিয়ে দিয়ে আনবে মুখে হাসি
তাদের নিয়ে ঘুরবে এবার হোকনা বাবা চাষি।
মনে মনে করে আঁকা ঝোঁকা
কাকাকে সে দিবেই এবার ধোঁকা,
ঈদের দিনে বুঝবে কাকা নেই আমি আর বোকা।।

তাক ধিনা ধিন নাচিরে
মুস্তাফা ইসলাহী

কাল হবে ঈদ
চোখে নেই নিঁদ
গল্পেতে জেগে থাকি রাতিরে
আলো যেই ফোটে
নদে যাই ছুটে
সাঁতারেতে খুব বেশি মাতিরে।

ঈদগার মাঠে
ইমামের পাঠে
সালাতের শেষে সবে দাঁড়িয়ে
বুকে টেনে ধরি
কোলাকুলি করি
ভালোবেসে হাত দেই বাড়িয়ে।

ভাই বোন মিশে
দুখ ব্যথা পিষে
মন থেকে ঘৃণা ভয় নাশিরে
জামা ঈদি পেয়ে
নানা পিঠা খেয়ে
একসাথে গাঁয়ে ঘুরে হাসিরে।

কত রঙ বেশে
নানা বাড়ি এসে
কত কিছু কত ভাবে যাচিরে
আদরেতে নেয়ে
কোন কিছু পেয়ে
তাক ধিনা ধিন তাক নাচিরে।


ঈদ মোবারক
বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট

আকাশে বাতাসে ছুঁয়ে যাক মোদের খুশীর মোড়ক ,
সবাইকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা ” ঈদ মোবারক ” ।
বিদেশে যারা আছি মোরা, আসেনা তো ঈদের খুশী ,
তবু অভিনয়ে শুভেচ্ছা বিলিয়ে দেই অনুরাগে ভাসি ।
প্রাণের হিল্লোল হৃদয়ের কল্লোল নিস্তেজ হয়ে ছুটে ,
পশ্চিম আকাশে ঈদ নামে যবে বেদনার চাঁদ ওঠে ।
প্রাণের বন্ধনে চাপিয়া ক্রন্দন বিলিয়ে দেই আয়েশ ,
নয়ন নীরে একাকী মোরা রান্না করি সেমাই পায়েস ।
দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে সুখ খুঁজি তবু পবনেতে ,
জীবনের গ্লানি দূর করিতে টেনে যাই ঘানী ভুবনেতে ।
আয়ু’টার দৈর্ঘ্য কেউ জানিনা তবু চলি অসীমে টানি ,
বিসর্জন দিয়ে সুখ শান্তি বাঁচিয়া রাখি জীবন খানি ।
রক্তের টানে প্রিয়জন ছলে তবু থাকি হাসি মুখে ,
যত হেসে যাই স্বস্তি নাহি পাই সুখ আসে না বুকে ।
তবু প্রিয়জনের মুখে হাসি ফুটাতে করে যাই অভিনয় ,
খুশীর ঈদ যেন উভয়ের মাঝে সমান ভাগাভাগি হয় ।
তোমাদের খুশী তো আমার খুশী খুশীতেই মাখামাখি ,
দেখেনা তারা আড়ালে থাকে নীরে ভিজে দু’টি আঁখি ।
সেমাই পায়েস শিরনি পোলাও লাগে যেন তোবারক ,
সবার মুখে হাসি ফুটাতে বলে যাই শুধু ঈদ মোবারক ।


ধ্বংসের আগে শহরের বর্ণনা
নোমান সাদিক

‘এভাবে কত জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি’-আল কুরআন

তখন বিকেলগুলো জমে উঠতো খুব
রাত যেন মোমবাতি ঝালড়ে আড়াল
ধ্বংসের আগে সে শহরে প্রতিদিন
কেঁদে কেটে ফিরে যেত একলা সকাল

দুপুরেও মরাঘুম কোথাও রমন
পাখিরা অভিজাত, নিরব কাননে
দরোজায় কারুকাজ, রক্ষী কড়াচোখে
মুসাফির ফিরে যেত ইতস্তত মনে

দরবারে কার্পেট, সুরের মুর্ছনা
ঢেকে দিতো আসন্ন দিনের ডর-ভয়
ভাড়ের বেতন বাড়ে,সৈনিকে বকেয়া
তলোয়ারে মরিচা, দিনকে দিন ক্ষয়

ব্যাবসায়ী ডানকানা, বাজখাই স্বর
ক্রমশ মানচিত্র ছোট, বিরাট সিন্ধুক
কবিরা রূপক শ্লেষে বিশেষ চতুর
প্রেমিকা ছলনাময়ী প্রেমিক মিথ্যুক

গিলাফে কোরান বন্দি, উন্মুক্ত বহস
‘প্লেটো কি নবী?’ ‘গন্তব্য কি হিন্দুস্থানে?’
মুর্তির সোকর্যে ব্যাস্ত ভাস্করের হাত
মুফতীরা পরস্পর মিথ্যুক প্রমানে

আরো কিছু দৃশ্য ছিল শহরের প্রান্তে
শহরবাসীর চোখ পড়েনি যেখানে
ক্ষুধা, রোগ, তাপদাহ, শৈত্যপ্রবাহ
আর্তের বাড়ানো হাত ধ্বংস ডেকে আনে

ধ্বংসের আগে শহরের কতিপয়
যুবক পালিয়ে গিয়েছিল দূরবাসে
আকাশের ঢাকনা খুলে নামছিল ক্রোধ,
শত্রুরা নিরবে এসে পাঁচিলের ওপাশে


ঈদের চাঁদ
মনিরুল হাসান

মা, বাবা আর চাচা, ফুফু
এবং খালা, মামায়,
সন্ধ্যা হওয়ার শুরু থেকেই
খুঁজছে কেবল আমায়।

মন্ত্রী, নেতা, পুলিশ, ডাকাত,
চোর, ভিক্ষুক, মুচি-
সবাই মিলে আমায় শুধু
করছে খোঁজাখুঁজি।

ধনী, গরীব নেই ব্যবধান
খুঁজছে আমায় সব,
কোথাও কী কেউ দেখলো
আমায় ছুটছে কলরব।

চাইছে না কেউ আসতে কাছে
কিংবা ছুঁতে গায়ে,
আমায় কেবল খুঁজছে শুধু
শহর এবং গাঁয়ে।

রাজধানীরই মানুষ যারা
কিংবা কোনো চাষী,
দেখলে আমায় ফুটবে জানি
সবার মুখেই হাসি।

ছোট বড় সবার মনে
আমায় দেখার সাধ,
মেঘের পিছে লুকিয়ে আছি
আমি ঈদের চাঁদ।


চাঁদরাতে
আব্দুল আজিজ

খুশির ঢল এল নেমে
দুখের কথা গেল থেমে
কিসের তরে জাগে সবে
কেমন তর অনুভবে
হারিয়ে সবে নিদ,-
জাগছে সবে দিবা-নিশি
জাগছে দূরে রবি-শশী
ধরার শিশু “চাঁদ রাতে”
নিজের ঘরে সবে মাতে
সকাল হলে ঈদ।

নিদ হারাল বনে কেয়া
নিদ হারাল ঘন দেয়া
নিদ হারিয়ে রাতে কবে
পিঠা-পায়েস রাঁধে সবে
দু’চোখে নেই ঘুম-
পাহাড় নদী ঝর্ণাধারা
আঁধার রাতে জাগে সারা
অপার সুখ অনুভবে
চাঁদের পানে চেয়ে সবে
খুশিতে দেয় চুম