আফসার নিজাম
১৫ মার্চ, ২০১৯ | ১২:১১

কাঁচা পয়সার স্বচ্ছলতা

tesst

ক্রমান্বয়ে রাত হয়ে ওঠে সুন্দর। আঁধারে ডুবে যাওয়া করুন কান্না চেপে ধরে ভয়ার্ত কণ্ঠনালী। শিশু চোখ কুতকুত করে, আলো জ্বলে জোনাকি।
কতোকাল মায়ের আঁচলে আঁকি না সুখের আদর।
কতোকাল ছোট বোনটিরে পড়াই না আদর্শলিপি।
অ-তে = অজগরটি আসছে তেড়ে।
আহ! আমি ভয়ে দৌঁড়াতে থাকি।
অ-তে = অজগরটি আসছে তেড়ে।
অ-তে = অজগরটি আসছে তেড়ে।
দিনের আলো খেয়ে ফেলে লোডসেডিং, বিদুৎ এখানে দিনের গর্ভধারিণী মাতা-মাতামহ আন্ডার গ্রাউন্ড রুম। প্রতিটি দেয়াল ব্রেইনে লিপিবদ্ধ আমার। রুমটি একবার প্রদক্ষিণ করার জন্য অনেকবার পা ফেলতে হয়। কোথাও ইটের দেহ নগ্ন হয়ে গেছে, পলেস্তরা উঠে। কোথাও রঙ ঝরঝর করে, হাত দিলেই ঝরে পড়ে। সমস্ত নখদর্পনে আমার। ক্রমান্বয়ে আমার মনে হয় জ্যান্ত কবরটি, প্রথম আজাব নির্ধারণের জন্য, এগিয়ে আসছে আমার দিকে।।
ক্রমান্বয়ে কাঠঠোকরা মগজে পিটায় হাতুড়ি ঠোঁট। দাবড়ে বেড়ায় রক্তের অণু। আর নির্ধারিত সময়ের আগেই আলো জ্বলে, অন্ধ হয় চোখ আমার। পাথরে পরিণত হয় চোখের প্রিজম। দিনের অনাহার দুর্বল করে দেয় হাঁটুর লালা। একালায় চমৎকার ছেলে আমি। যাই মসজিদে; পড়ি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।
কারো বিপদ; স্বশরীর উপস্থিত = আমি আছি।
কারো ডেলিভারি = আমি আছি।
কারো মেয়ে অবৈধ অন্তসত্ত্বা = আমি আছি।
কেউ মেয়ে নিয়ে ভেগে যাবে = আমি আছি
কেউ অবৈধ কাজ করবে = আমি আছি।
এভাবেই পিছলে গেলো বোধের প্রাঙ্গণ। লোভে অন্ধকার আলো হয়ে উঠলো। টাকার গন্ধে মজে গেলো দিলো। স্বীকার করে নিলাম অস্বীকারের নতুন পথ। প্রতিটি বোতল হয়ে উঠলো ব্যবসায়ের আকর্ষণীয় কথোপোকথনে আয়ত্ত করে নিলাম তরুণ-তরুণী, বন্ধু-বান্ধব, কিশোর-কিশোরী। সক্ষম হলাম তাদের বুঝাতে যে যাবতীয় আনন্দ একটি বোতলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তারা, যারা গ্রহণ করে প্রথম বোতলের স্বাদ।
তারা উড়তে থাকলো।
তারা ঘুরতে থাকলো।
চোখে ঘুমের আড় ভাব থাকলো।
পৃথিবী আবর্তিত হতে থাকলো।
ভুলে গেলো তারা সময় জ্ঞান। আমার মুখে নিপুণ বুননের শব্দরাজি দিয়ে তাদের কাছে অমৃত করে তুললাম বোতল। এমন কী একটি জীবনের চেয়েও দামি করে তুললাম একটি বোতল পাওয়ার আকাঙ্খা।
কাঁচা পয়সায় মুঠ ভরে যায়। বন্যার পাখির মতো উঠে আসলো আমার স্বচ্ছলতা। অ্যাপার্টমেন্ট+গাড়ি+মোবাইল। আমার সফলতা, চোখ খুলে গেলো উচ্চাকাঙ্খী কিছু ব্যবসায়ীর। যোগ দিলো তারা। ক্রমান্বয়ে জমে উঠলো ব্যবসায়ী এলাকা। সংগ্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলো জনপদ। নেশায় ডুবে গেলো তরুণ প্রজন্ম। লা’নতে এলাকা হারাল সমস্ত চঞ্চলতা।
তারপর কেবলি অনুৎপাদিত শিল্প।
ঋণ খেলাপী অর্থনীতি।
শ্রমহীন-বেকার শিক্ষা।
ভেঙে পড়লো আমাদের মিনারের সিঁড়ি।
এখন আমার আপন মসজিদ অপরিচিত এবঙ আম্মাকে আম্মা আর আব্বাকে আব্বা মনে হয় না।
অথচ আমাদের সোনালি দিন, সবে কদর, বসন্তের রমনা…
সেই সব ঐতিহ্য, রূপকথা মনে হয়।।
অবশেষে তৈরি হলো জনতার মঞ্চ। আমার জন্য আসে সেই প্রত্যাশিত সময় আসর।
এলাকাবাসীর দাঁড়িপাল্লায় অভিশপ্ত হই আমি। বিচারের প্রধান সাক্ষী সেই সুন্দরী রমণী খুলে দেয় আমার জন্য নির্ধারিত জাহান্নামের দরজা। হই আমি জ্যান্ত কবরের বাসিন্দা।
হায়! আমার দেয়া লেইছ ফিতা তখনও রমণীর বেণুনীতে দুলছে। হাতে সিঞ্জিন তুলছে রেশমি চুড়ি। তার চোখের কাজল প্রমাণ করছে যে… সে ভুলে গিয়েছিলো তার জন্যই আমার অর্থ উপর্জন!!

আমাদের মায়েরা শুধু কাঁদে। আমাদের বোনেরা এবঙ সদ্য বিবাহিত তরুণী মোনাজাত করে- তাদের সন্তান এবঙ স্বামীর স্বাভাবিক জীবনের জন্য। ‘হে খোদা, আমার সন্তানকে… হে খোদা, আমার স্বামীকে যদি ভালো করে দাও। তোমার মসজিদে দু’ইটি মোমবাতি…’
কিন্তু তারা কখনই জানবে না মসজিদে যাওয়ার জন্য আমার মন কতো উন্মুখ, জামায়াতে নামাজের জন্য কতো ক্ষীণতর আমার কণ্ঠ।

বিষয়সমূহঃTags: