কামাল আহসান
১৩ জুলাই, ২০১৯ | ১৪:৪২

কামাল আহসান এর কবিতা

tesst

ছদ্মনাম

ভালবাসি এক অপূর্ব আগুনের বন;
অচেনার গোলগাল মন,
পাতার রঙকে বৃক্ষদের আলো জেনে
ভালবাসি আরো বেশিক্ষণ।
দহনের মুখোমুখি হেসে উঠি
সতেজ পাতার মতো;
জ্বালানো যৌবনে আসা
গোপন-সুঠাম প্রেম যতো।
রাত যেমন নিজের আগুনে
তাহার অন্ধকার চিনে নেয়;
দিন নেমে যায় মানুষের
বিগত খোয়াবের খাতায় খাতায়।
পাঠক হবার আগে প্রিয়পাঠ্য হয়ে
কেউ কেউ চলে যায়,
কেউ কেউ শুকনো ডালের মতো ঢুকে যায়
ইতিহাসের চুলায়।
আগুনকে ভালবেসে হাসি,
নিজের সুনাম শুনে হাসি,
মাটিতে প্রেমের ঘর বেঁধে
আলোর ডাকেই হয়েছি সুভাষি।
একক শাখায় সব পাখি নয় দুঃখি;
তোমার চাহুনী খুশি সেই তাপের আশায়,
একঝাক রাতের ভেতর সুখ একা;
তুমি- আমি ছদ্মনাম সুরের তানপুরায়।

রাতের ওপিঠে রেখে আসা রাত

গতরাতের স্বপ্নরা আসবে না ফিরে আর;
গতরাতের দুঃখরা ভাঙাবে না ঘুম কারো।
স্বামীর বাসার থেকে রানী’বুর হাত সরে গেছে,
সাথে যতোরাত হারিয়েছে, পালিয়েছে যারা;
নিকটের ইতিহাস,
তবু সবাটা অতীত;
লালবর্ণ আত্মিয়া তারা।
নিয়মিত বোনেদের ঘরে তারা পরমের ধারাপাত,
তবু
….পথজুড়ে তখন যে রাত ছিলো সেটা গতরাত।
একখাম প্রতিদিন বহন করে না কোনো কুরিয়ার;
ডাকের নতুন ছকে হয় বিবাহের সাবরেজিস্টার।
পোস্টমাস্টার ধ্যানের পুরুষ দিবসে ঘুম যায়,
অলসের সব রাত কি করে একই রকমের হয়?
রানীর স্বপ্নের রাত গত হলো, গত হলো স্বাদ,
আজ কালো ঘুম নেই; নেই রঙ করা ভোর,
অহল্যারা আঁধার হারালো, আলোর আঘাত।
বৃক্ষের শাখারা সহস্র পাখির সুর রাখে মুখস্থ সুধীর,
পায় সেও আশাহীন পাখির নজরে ভোর পরম গভীর।
যেতে থাকে,
যেতে থাকে,
এবং যায়,
মরহুম হয় বাবা;
মরহুমা হয়ে যায় মায়,
কতোরাত বাবাহীন সন্তানেরে চতুর ঘুমেই খায়।
বোঁটাহীন ঘুম কতো বারান্দায় হাসে;
আসে উজ্জল চর্যাগীতিকা,
স্বপ্নের ছায়ায় পোড়ে শত শত রাত;
নজরে পালানো শোকাহত দুই হাত,
পথেরে পেছনে ফেলে চলে যায় বর্তমানের পা।
জেগে উঠছে রাতের পিঠে আরো শতশত রাত,
তুমি ছিলে, ছিলে তুমি,
আছো আছো বলে নেই তুমি,
তুমি নেই, তুমি নেই ………
আছে স্বপ্নের খিলান; আছে বিগতের অন্তর্ঘাত।

আমার ব্যালেন্স

তোমাদের অহংকার দিয়েছে অবহেলা; ক্ষয়,
সতেজ বিকেলে এনে দিলো নিটোল বিজয়।
ঘরের ঘড়িরা অচল তোমার;
অমাবস্যাতিথি উপহার,
পাথর আমার ঘাসের তলায়;
পাখির সবুজ সমাহার।
অবহেলা পুকুরের জল জোয়ার ভাটায় নাই,
ভালোবাসা মানব পোশাক মনজুড়ে তার ঠাঁই।
আমারে ছোঁবে না অভিশাপ কোনো;
কোনো অহংকার নাই,
পাথর বললো নদীর খবর;
সাঁতার কাঁটতে যাই।
অবহেলার মজুদ ছাড়া কোনই ব্যালেন্স নাই,
বুকের নতুন স্রোতে নেমে শিশুতোষ সাঁতরাই।

প্রেমবৃত্তান্ত

প্রেমনামে বলেছিলে তাকিয়ে থাকতে চোখে!
আছি আজো আছি; স্থিরপদ রয়েছি স্বকার,
শ্রবণের পরেও রয়েছি ঠিক; পিতৃভিটার অধিক।
সূর্যটা যেমন আছে অপলক তাকিয়ে গ্রহে- উপগ্রহে,
সুন্দরীকাঠ রয়েছে দাঁড়িয়ে সুষম আহ্বানে একা;
মজবুত ঘরের নির্মাণ দিতে কতোই অপেক্ষা তার।
ভুলে গেলে তুমি? আমি ভুলিনি বৈশাখি নম্রস্বর,
চোখের ডাক্তার দিয়েছে চশমা দেয়নি নতুন ঘর।
সাদারঙ দেয়ালে রেখেছি নব্য সব নজরের তাজা ফ্রেম,
দৃষ্টির গরিমা খেয়ে নিলে ভোর; আঁধার জোগাবে প্রেম।
রয়েছি আজও শিল্পীর মতোন তাকিয়ে তোমার চোখে,
বসন্ত পালিয়ে গেলে দৃষ্টি দেবো হোমারের অন্ধ সুখে।

দিবস মিলেছে ভালোবাসা মিলে নাই

জানালায় পেতে রাখা দুই কান স্বরূপে সজাগ,
কারা যেন ভোর থেকেই বলছে-
আজ অমুক দিবস,
আজ অমুক দিবস।
দরজায় চোখ দেখছে গোলপ বিক্রির মহড়া;
লাল লাল হাতের জৌলুস,
ফাগুনের গান সকালের রোদ বিলিয়ে বলছে,
আজ অমুক দিবস,
আজ অমুক দিবস।
পুকুরের পানিতেও ঘাঁই মেরে বলেনি মাছেরা;
দুধেল গরুটা কেবল নিজেকে রেখেছে অধরা,
তুমিও বলোনি তাই শব্দটা আমার স্মরণে এলো না;
মনোদরজা সর্বদা সাদা; কোন দিবসেই দুধ রঙিন হলো না।
দোহাই দোহাই সভ্যতার ভুলের দোহাই….
চোখের দরজা আছে কান ভরা ছাই,
দিবস মিলেছে ভালোবাসা মিলে নাই।

বিষয়সমূহঃTags:

পূর্বের সংবাদ

«

পরের সংবাদ

»