আশরাফ পিন্টু
২ আগস্ট, ২০১৯ | ১৪:১১

তিনটি অণুগল্প

tesst

খুনি
লোকটি খুন করেই যেন হাওয়া হয়ে যায়, কেউ তাকে ধরতে পারে না । কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। পুলিশরা তার সন্ধানে গলদর্ঘম, কিন্তু খুনি লাপাত্তা, কোথাও তার চিহ্নমাত্র নইে ।
এদিকে একের পর এক শহরে খুন হচ্ছে । একই কায়দায়, একই স্টাইলে খুন। খুনের ধরন দেখে মনে হচ্ছে খুনি একজনই। কিন্তু খুনি পালাবে কোথায়? যত বড় জঙ্গী-সন্ত্রাসী হোক না কেনো, ও তো বিদেশে চলে যায়নি, দেশেই আছ। ধরা ওকে পড়তেই হব। খুনিকে ধরার জন্য শেষমেশে সিআইডি পিছু নেয় ।
অনেক কৌশল আর কাঠখড় পুড়িয়ে সিআইডি খুনির অবস্থান নিশ্চিত করে। খুনি একটি গোরস্থানে আত্মগোপন করে আছে। একদিন রাত্রিতে সিআইডি খুনিকে হাতনোতে ধরে ফেলে। দেখে খুনি একটি নতুন কবর খুঁড়ছে। সিআইডি অবাক হয়ে বলে, তুমি এখানে কি করছ?
“সে বলল, মৃত্যু থেকে পরিত্রাণ চাই
কবরে লুকিয়ে থেকে বেঁচে থাকব-
এজন্যই কবর বানাই।”

মানর
সিংহ ও বাঘের সংমিশ্রণে যে সংকর প্রাণীটি পৃথিবীতে জন্মেছে তার নাম – লাইগার; আর গাধা ও ঘোড়ার সংমিশ্রণে সৃষ্ট সংকর প্রাণীটর নাম হলো – খচ্চর – এ কথা আমরা প্রায় সবাই জানি । কিন্ত সম্প্রতিকালে আফ্রিকার গহীন অরণ্যে মানব আর বানরের সংমিশ্রণে এক অদ্ভুত সংকর প্রাণীর জন্ম হয়েছে, সে কথা আমরা অনেকেই জানি না । এই প্রাণীটির নাম হলো -“মানর”।

মানর দেখতে মানবের মতো তবে উচ্চতা বানরের সমান। মানব ও বানর থেকে ওকে সহজেই আলাদা করা যায় একটি চিহ্ন দ্বারা, তা হলো – ওর কপালের মাঝখানে রয়েছে একটিমাত্র চোখ । মাথায় নয়, এই একটি চোখের মধ্যেই রয়েছে ওর সকল বুদ্ধিমত্তা।
বাংলাদেশে “মানর “- এর আগমন কবে , কীভাবে ঘটেছে তা অনেকেই জানে না । কেউ কেউ বলে , দশ-বারো বছর আগে ওকে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল । ওর বুদ্ধিমত্তা নাকি মানুষের চেয়ে অনেক গুণ বেশি, তাই দীর্ঘ দেশশাসনের জন্য ওকে রাজপ্রাসাদে স্থান দেওয়া হয়েছে । ও মানুষের চোখে চোখ রেখে সব কিছু বলে দিতে পারে । ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চের কুকুররা যেমন শুঁকে শুঁকে অনেক কিছুর সন্ধান দেয় – অনেকটা তেমন । তবে ও নিজে থেকে কিছুই করতে পারে না । কুকুরকে যেমন মানুষ পরিচালনা করে ওকেও তেমনি মানুষ পরিচালিত করে থাকে ।

সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে মানর নাকি সব মানবকে ওর মতো একচোখা এবং স্বাধীন মানরে পরিণত করার চেষ্টায় আছে।

মানুষ হবার গল্প
একদিন একটি শার্ট ও একটি প্যান্ট পরিকল্পনা করল তারা পূর্ণাঙ্গ মানুষ হবে। তাদের তো মানুষের মতো সবই আছে, শুধু মাথাটা নেই।
শার্ট বলল, ওটাও ম্যানেজ করা যাবে। একটা মুখোশ যোগাড় করে তা গলায় বসিয়ে দিলেই হবে।

যথারীতি শার্ট, প্যান্ট ও মুখোশ মিলে একটা পূর্ণাঙ্গ মানুষের অবয়ব তৈরী হলো। এরপর তারা মানুষের উপরই কর্তৃত্ব করতে লাগল।

বিষয়সমূহঃTags: