ফাহিম ফিরোজ
১০ জানুয়ারি, ২০২০ | ০৯:৩৪

ফাহিম ফিরোজ’র কবিতা

tesst

অভিশাপ ভালো, দীর্ঘশ্বাস নয়

তোমাদের বাড়ি, বুকের এপাশ দিয়ে ঢুকে
ঐপাশে ইংরেজি এলাক্ষর হয়ে আছে
সেই দিন টানলেও খোল ছিলো না ঠাকমা!
নিশিমই ভেঙ্গে, তাই তো বিছানাচ্যুত একা; ভূমিতে আছড়ে পড়া
প্যারাস্যুট ভঙ্গিমায় ছোট হয়ে, উঠোনের ফুলগাছতলে বসি
কি যেন কি যেন খুঁজতাম ভাবিসাব, কপালের নিচে দুইটি ডিমকে দূরবীন করে!
তখন তো নদী-দীঘি-কুয়ো এই নাক-কান দিয়ে ঢুকে দাদাজান
কইতো কইতো হারিয়ে যাওয়া সেই গল্পস্রোত…। নভের তারারা
একটা বসন্ত ধরে এনে ছেড়ে দিতো আমারই চারপাশে
অদৃশ্য পাখিরা গেতো গান, নিতাম নিতাম ঐ গাছ থেকে
পুষ্পদান কিন্তু ঘ্রাণ ছিলো না। ছিলো না ছিলো না মালিক তখন
যাদেরই বাড়ি, সে পাইপে ঢুকে আছে, দূরাদূর
মুখোদ্বয় তার আজীবন ঢালাই, বিয়াই! গলাটা আমার ভারী ছিলো খুব
আবারও বিছানায় কাৎ..। শূন্যতায় মসজিদ বানিয়ে দুই রাকাত
নামাজ পড়লাম। নানুজান, বুঝে গেছি, যতোবার এখানে আসবো
নান্দনিক ধর্মালয় বেড়ে যাবে, শূন্যতার পরিসংখ্যান…
অভিশাপ ভালো, কিন্তু দীর্ঘশ্বাস নয়! সে হচ্ছে কেবল
দাঁতবাদি করাত। যে দিকে যাবে কেটেকুটে
শুধু গোরস্তানই দেখিয়ে দেবে !

কুত্তামারা যুবক

ভরা বর্ষায়, কোনো উঁচুভূমি না পেয়ে কুকুর সব
কেমন পাগল হয়ে যায়! বিলে, কোনো মৎস্যের
লাফালাফি দেখে শুধু চিৎকার জুড়ে । তাই ঘুম উত্থিত যুবক
ছুটে, হাতে লম্বা লাঠি; ফোটে ঠাস ঠাস। দৃশ্যটা এমন
অন্ধকার থেকে মনে হয় মুক্ত করছে এদেশ
প্রতিদিন এই মব হাড়জ্বালাতন ভালো লাগে না তো!
প্রাণে সহে না তো! চায়ের দোকানে বসে মুরুব্বিরা
এই দৃশ্যকে অধিক চুনভরা তাম্বুল বানিয়ে খায়
দাহ সয়। ধরিত্রির সব কিছুতেই দুষ্টরা এখন
নাক গলাতে প্রস্তুত। মগজে জর্দার গুঁড়ো নিয়ে সর্বত্রই
ভ্রাম্যমাণ কি যে ঝাঁঝ! কোনো কিছুতেই না বললে ‘হ্যাঁ’ করে
শুধু তাই? মুহূর্তেই লম্বাকার ঝড় নামিয়ে আনবে গৃহে। নানুজান
কতো রে বিপদ! ওরা পাগল পবন আর ছাগল বোধের।
আকাশের কান ছুঁয়ে পথপাশে কতোশত অকর্ষিত ভূঁই
কিছু লাউ-শিম বুনে দিলে হয় কিন্তু কেউ কিছু করে না
গোঁফে তেল দিয়ে ঘোরে। ঝোঁপঝাড়ে সিদ্ধিব্রতে
তিনবেলাই উড়তে থাকে। এদিকে, মা-জানের
পাঙ্গাস রাঁধতে হয় পিঁয়াজে কেবল
উনুনে দু চোখ ধূঁয়োমুক্ত করে ভাবে:
সেই ফিডারকালেই ওইসব মুখে এড্রিন দেওয়া ঠিক ছিলো
পিসিমারে, প্রাণে সহে না তো, ভালো লাগে না তো…!
পাগল পবন আর ছাগল বোধের ওসব দুরস্তদের নিয়ে
গাঁওদেশ আজ ঠাঙভাঙা বৃদ্ধ হয়ে আছে।

মৃতদিন

গাছের চামড়া তুলে নিলো কেউ?
নাকি আমারই ত্বক? ব্যথারা এখন
জিলাপির প্যাঁচ মারে হাড়ের গভীরে!
চাইয়া চাইয়া দেখলাম,
আইছিলো গেটে; তবে ঝড়
হয়ে
উড়ে গেলো
ফের–
আইছিলো, নড়ছিলো; এককাপ চা’ও না! হাতটা
বাঁধা ছিলো অজানা ফিতায়।
কোথায় শুইলো,খেল–
পরে, সব জানলাম কিন্তু
ছোঁয়া হলো না, ঘাড়ের উপর সেই কালচে মৌচাক!

ফাস্টলাইক-২

মুহূর্তে দর্শন; অভিমান
মেঘ থম থম গোলময়
কাকী, তারে নাকি ফেলে গেছি?
কয় কয় ঘাসমূলে, ফোলে
কইছে কইছে দাদীমা’য়
এসব বাজার নয়–
আছি বাবা মাইনক্যাচিপায়!

কাগজের ঘর

মাথা ঝাড়া দিলেই কয়লা বের হয়
নাকে-মুখে…
পা’র নখে, ঝোঁকে ঢুকে হিমবাদি হাওয়া
কান দিয়ে বের হয়। মাসি, আমি কী আছি রে!
রইছি রইছি ঠিক, টিক্ বিয়াইন?
রেডিমেট খাটের উচ্চতা নিয়ে নভো ছোঁয়া
মিছাই প্রয়াস! কই যামু, পাবো খোয়ানো অতীত? কইল কইল তাই অনীল চাকমা
বুঝো না শেখ পো? শূন্যে কাগজের ঘরে থাকো
সালান্তর… কালান্তর!

বিষয়সমূহঃTags: