utsanga
১৯ জুলাই, ২০২০ | ১৬:১৬

মুহম্মদ আবদুল বাতেন’র কবিতা

tesst

এনাটমি

বাতাসে মিশে থাকা জলকণা আমি
মলিন সন্ধ্যায় শেষ আলোর রেখা।
মনের আয়নায় ভেসে ওঠা চাঁদ।
গাঙের খাড়িতে ডুবে থাকা কোরাল।
বাঁশ বনের রাত্রিকালীন জোনাকি,
গ্যালাক্সি প্রান্তের শেষ নবীন সূর্য।
আশা সিন্ধু তীরে আমি খেয়ার মাঝি
জঙলা ঘাসের ভেতর সারসের ডিম।
বহুদূর অন্ধকারে শতাব্দীর ওপাড়ে
মানুষেরা শুনিতেছে প্রাণের স্পন্দন।
উড়ন্ত পাথরের সিলিকন গুহায় লেখা
আছে তার মৃত্যুহীন সমস্ত ইতিহাস।

ন্যানো পাখিপ্রাণ বিরাম চিহ্ন

ভরা বর্ষায় মাছের খোঁজে যাও গভীর সমুদ্রে
জেলেনির পরাণ-ঘাটে একখানা নৌকা ভাসে
অন্ধকার জল, আধাখানি ডুবে আছে- মায়াবী মাছেরা খেলে।
জেলেনির দেহ, তিন নদীর ঘাট আর দরিয়ায় ভাসে মাছের ট্রলার,
ত্রিভূজ জ্যামিতিক জীবনের তিন পাড়ে খেয়া দেয় রোজ
মাসান্তে রক্তের নহর বয়ে নেমে আসে কসমিক ভ্রুণ
প্রতিপক্ষে বাড়ে জোয়ারের টান; দূরে কিছু কিছু ঊর্ধ্বমুখী পাখি
পড়শি চাঁদের কম্পাসে বৃত্ত আঁকে, কেন্দ্রে তার শূন্যগহ্বর
কায়াহীন ছায়াগুলো জীবনের জেলেবউ।
তুমি জেলে পাড়ার ছেলে, ভবঘুরে কাক এবং তুমিও জলচর মাছ
মৃত্যুর মতো নিঃস্তব্ধতায়- জালে ঘিরে রাখ ডিম,
মেয়েমাছের কাছে জেনে নিও-জেলেনির খবর।

সূচনা বিন্দু থেকে

কাটা আঙুল ছুঁয়ে দেখো তোমার কিনা
যখন তা দ্বিখণ্ডিত হয়, তৎক্ষণাৎ তুমি
বুঝতেই পারবে না কী হারালো;
যাতে ভীত না হও, মস্তিষ্ক তোমার
আঙুল শহীদ হওয়ার খবর
গোপন করে যায়।
তোমার হৃদয় যখন ‘সিঙ্গুলারিটির’
মধ্যে পতিত হলো,
সমাধিস্থ চেতনার মধ্যে থেকে তোমার
প্রেম ইউনিভার্স হয়ে উঠলো,
আরো সাহস্রাব্দ পরে তুমি বুঝবে যে,
তোমার কোন টেরিটোরিয়াল বাউন্ডারি নাই,
ধ্যানস্ত হৃদয় যখন তার জন্য শহীদ হয়ে
গেল, তখন একটি মাত্র শব্দই কবিতা
হয়ে ওঠে, আর সময়ের আগে তুমি তার
সন্ধান পাবে না। আলোর অবশ্যই উৎস
থাকে, পাখির ঠোঁটে তৃর্ণখন্ড থেকে
আমি প্রথম তার বাসার খোঁজ পেয়েছি।

মহাকাল
বাতাসে ভেসে বেড়ানো শব্দ পৃথিবীর
অন্ধকার নিঃসাড়তায় ডুবে যায়,
মজ্জাহীন কঙ্কারের গায়ে রেখে
যাওয়া ঘাত বহুদূর থেকে শোনা যায়,
মৃতরা সমবেত হয় কবরখানায়
বিবর্ণতা থেকে ইনফারেড রেখায়।
মোষের বাথান থেকে ছিন্ন হয়ে
লাভার মুখে দাঁড়িয়ে লিখছি কবিতা।
বিড়ালের নিঃশব্দ পায়ে একা একা
মৃত্যুর দুয়ার পাড় হচ্ছে মহাকাল।

ফল
ফল অবশ্যই বোটার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।
সময়ের একমুখী যাত্রার সূচনাবিন্দু থেকে সময় বিপরীতগামী।
কোন কিছুর অস্তিত্বের বিদ্যমানতার ভেতর তার আরো অজানা সম্ভাব্যতা থাকে।
কোন কিছু থাকা অথবা না থাকার ধারণা একটা মেট্রিক্স। একটি আরেকটির অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয়।
চিন্তার সঞ্চরণশীলতার মধ্যে শিল্প জন্ম নেয়, স্থিরতায় তার মৃত্যু ঘটে।
আর মিঠাপানির মাছ কখনো সমুদ্রমুখী হবে না।

ঢেউ
ঢেউ গুণে গুণে সন্ধ্যা-
গোনা শেষ হয় না।
অন্ধকারে শুধু সমুদ্রের
গর্জন শোনা যায়।
দূর থেকে ধুসর দেখা
স্মৃতির পাতা থেকে গড়িয়ে
পড়া বৃষ্টির ফোঁটা
মৌনতার মধ্যে টেনে নেয়
স্পর্শের অধিক
প্রাণের আভা।
ভিজছে লেবু পাতা
ভেঙে পড়ছে জামের ডাল
কম্পাসের কাঁটার মতো
আমি এখন এই পৃথিবীর
চুম্বকক্ষেত্র বরাবর
শুয়ে থেকে শুনছি
বর্ষা নিশিথের গান।

সেলফি
কতিপয় ফড়িং ভোরের রোদ্দুরে ঘাসের ওপর শিকার ধরে
নীৎশের বাড়ি যায়, লালনের ডেরায় ঘুমায়- হুকোটানে;
বিকালে আড্ডায় কবিতার ডলার ভাঙায়, সেলফি আলোচনা
শোনে। আকালের ঘোরে বায়োস্কোপ দেখে ঘুমায়- শোপেনহাওয়ার।
সারারাত ফ্রয়েডের পোকারা এসে খেয়ে ফেলে রক্ত-মাংস-মেদ
প্রতিদিন এখানে সেখানে থাকে হাড়গোর, আর্তপ্রতিধ্বনি।

পূর্বের সংবাদ

«