জসীম উদ্‌দীন, নাসির হেলাল, নয়ন আহমেদ, আহমদ বাসির, জানে আলম, সুমন রায়হান, রেদওয়ানুল হক, তাজ ইসলাম, শাহিদ উল ইসলাম, সাইফ আলি, ইসমাঈল মুফিজী, সাইফ জুয়েল, আহমেদ খায়ের, দীদার মাহদী, ইসলাম তরিক।
১৮ মে, ২০১৯ | ০৮:০৮

রমজান সংখ্যা ২০১৯

tesst

তারাবি
জসীম উদ্‌দীন

তারাবি নামাজ পড়িতে যাইব মোল্লাবাড়িতে আজ,
মেনাজদ্দীন, কলিমদ্দীন, আয় তোরা করি সাজ।
চালের বাতায় গোঁজা ছিল সেই পুরাতন জুতা জোড়া,
ধুলাবালু আর রোদ লেগে তাহা হইয়াছে পাঁচ মোড়া।
তাহারি মধ্যে অবাধ্য এই চরণ দুখানি ঠেলে,
চল দেখি ভাই খলিলদ্দীন, লুন্ঠন-বাতি জ্বেলে।
ঢৈলারে ডাক, লস্কর কোথা, কিনুরে খবর দাও।
মোল্লাবাড়িতে একত্র হব মিলি আজ সারা গাঁও।

গইজদ্দীন গরু ছেড়ে দিয়ে খাওয়ায়েছে মোর ধান,
ইচ্ছা করিছে থাপপড় মারি, ধরি তার দুটো কান।
তবু তার পাশে বসিয়া নামাজ পড়িতে আজিকে হবে,
আল্লার ঘরে ছোটোখাটো কথা কেবা মনে রাখে কবে!
মৈজদ্দীন মামলায় মোরে করিয়াছে ছারেখার,
টুটি টিপে তারে মারিতাম পেলে পথে কভু দেখা তার।
আজকে জামাতে নির্ভয়ে সে যে বসিবে আমার পাশে,
তাহারো ভালর তরে মোনাজাত করিব যে উচ্ছাসে।
মাহে রমজান আসিয়াছে বাঁকা রোজার চাঁদের ন্যায়,
কাইজা ফেসাদ সব ভুলে যাব আজি তার মহিমায়।
ভুমুরদি কোথা, কাছা ছাল্লাম আম্বিয়া পুঁথি খুলে,
মোর রসুলের কাহিনী তাহার কন্ঠে উঠুক দুলে।
মেরহাজে সেই চলেছেন নবী, জুমজুমে করি স্নান,
অঙ্গে পরেছে জোছনা নিছনি আদমের পিরহান।
নুহু আলায়হুছালামের টুপী পরেছেন নবী শিরে,
ইবরাহিমের জরির পাগরী রহিয়াছে তাহা ঘিরে।
হাতে বাঁধা তার কোরান-তাবিজ জৈতুন হার গলে,
শত রবিশশী একত্র হয়ে উঠিয়াছে যেন জ্বলে।
বুরহাকে চড়ে চলেছেন নবী কন্ঠে কলেমা পড়ি,
দুগ্ধধবল দূর আকাশের ছায়াপথ রেখা ধরি।
আদম ছুরাত বামধারে ফেলি চলে নবী দূরপানে,
গ্রহ-তারকার লেখারেখাহীন ছায়া মায়া আসমানে।

তারপর সেই চৌঠা আকাশ, সেইখানে খাড়া হয়ে,
মোনাজাত করে আখেরী নবীজী দুহাত উর্ধ্বে লয়ে।
এই যে কাহিনী শুনিতে শুনিতে মোল্লা বাড়ির ঘরে,
মহিমায় ঘেরা অতীত দিনেরে টানিয়া আনিব ধরে।

বচন মোল্লা কোথায় আজিকে সরু সুরে পুঁথি পড়ি,
মোর রসুলের ওফাত কাহিনী দিক সে বয়ান করি।
বিমারের ঘোরে অস্থির নবী, তাঁহার বুকের পরে,
আজরাল এসে আসন লভিল জান কবজের তরে।
আধ অচেতন হজরত কহে, এসেছ দোস্ত মোর,
বুঝিলাম আজ মোর জীবনের নিশি হয়ে গেছে ভোর
একটুখানিক তবুও বিমল করিবারে হবে ভাই!
এ জীবনে কোন ঋণ যদি থাকে শোধ করে তাহা যাই।
***
***
মাটির ধরায় লুটায় নবীজী, ঘিরিয়া তাহার লাশ,
মদিনার লোক থাপড়িয়া বুক করে সবে হাহুতাশ।
আব্বাগো বলি, কাঁদে মা ফাতিমা লুটায়ে মাটির পরে,
আকাশ ধরনী গলাগলি তার সঙ্গে রোদন করে।
এক ক্রন্দন দেখেছি আমরা বেহেস্ত হতে হায়,
হাওয়া ও আদম নির্বাসিত যে হয়েছিল ধরাছায়;
যিশু-জননীর কাঁদন দেখেছি ভেসে-র পায়া ধরে,
ক্রুশ বিদ্ধ সে ক্ষতবিক্ষত বেটার বেদন স্মরে।
আরেক কাঁদন দেখেছি আমরা নির্বাসী হাজেরার,
জমিনের পরে শেওলা জমেছে অশ্রু ধারায় তার;
সবার কাঁদন একত্রে কেউ পারে যদি মিশাবার,
ফাতিমা মায়ের কাঁদনের সাথে তুলনা মেলে না তার।

আসমান যেন ভাঙ্গিয়া পড়িল তাহার মাথায় হায়,
আব্বা বলিতে আদরিয়া কেবা ডাকিয়া লইবে তায়।
গলেতে সোনার হারটি দেখিয়া কে বলিবে ডেকে আর,
নবীর কনের কন্ঠে মাতাগো এটি নহে শোভাদার।
সেই বাপজান জনমের মত গিয়াছে তাহার ছাড়ি।
কোন সে সুদূর গহন আঁধার মরণ নদীর পাড়ি।
জজিরাতুল সে আরবের রাজা, কিসের অভাব তার,
তবু ভুখা আছে চার পাঁচদিন, মুছাফির এলো দ্বার।
কি তাহারে দিবে খাইবারে নবী, ফাতেমার দ্বারে এসে;
চারিটি খোরমা ধার দিবে মাগো কহে এসে দীন বেশে।
সে মাহভিখারী জনমের মত ছাড়িয়া গিয়াছে তায়,
আব্বাগো বলি এত ডাক ডাকে উত্তর নাহি হায়।
এলাইয়া বেশ লুটাইয়া কেশ মরুর ধূলোর পরে,
কাঁদে মা ফাতেমা, কাঁদনে তাহার খোদার আরশ নড়ে।
কাঁদনে তাহার ছদন সেখের বয়ান ভিজিয়া যায়,
গৈজদ্দীন পিতৃ-বিয়োগ পুন যেন উথলায়!
খৈমুদ্দীন মামলায় যারে করে ছিল ছারেখার,
সে কাঁদিছে আজ ফাতিমার শোকে গলাটি ধরিয়া তার।
মোল্লাবাড়ির দলিজায় আজি সুরা ইয়াসিন পড়ি,
কোন দরবেশ সুদূর আরবে এনেছে হেথায় ধরি।
হনু তনু ছমু কমুরে আজিকে লাগিছে নূতন হেন,
আবুবক্কর ওমর তারেখ ওরাই এসেছে যেন।
সকলে আসিয়া জামাতে দাঁড়াল, কন্ঠে কালাম পড়ি,
হয়ত নবীজী দাঁড়াল পিছনে ওদেরি কাতার ধরি।
ওদের মাথার শত তালী দেওয়া ময়লা টুপীর পরে,
দাঁড়াইল খোদা আরশ কুরছি ক্ষনেক ত্যাজ্য করে।

***

মোল্লাবাড়িতে তারাবি নামাজ হয় না এখন আর,
বুড়ো মোল্লাজি কবে মারা গেছে, সকলই অন্ধকার।
ছেলেরা তাহার সুদূর শহরে বড় বড় কাজ করে,
বড় বড় কাজে বড় বড় নাম খেতাবে পকেট ভরে।
সুদূর গাঁয়ের কি বা ধারে ধার, তারাবি জামাতে হায়,
মোমের বাতিটি জ্বলিত, তাহা যে নিবেছে অবহেলায়।
বচন মোল্লা যক্ষ্মা রোগেতে যুঝিয়া বছর চার,
বিনা ঔষধে চিকিৎসাহীন নিবেছে জীবন তার।
গভীর রাত্রে ঝাউবনে নাকি কন্ঠে রাখিয়া হায়,
হোসেন শহিদ পুঁথিখানি সে যে সুর করে গেয়ে যায়।
ভুমুরদি সেই অনাহারে থেকে লভিল শূলের ব্যথা,
চীৎকার করি আছাড়ি পিছাড়ি ঘুরিতে যে যথা তথা।
তারপর সেই অসহ্য জ্বালা সহিতে না পেরে হায়,
গলে দড়ি দিয়ে পেয়েছে শানি- আম্রগাছের ছায়।
কাছা ছাল্লাম পুঁথিখানি আজো রয়েছে রেহেল পরে,
ইদুরে তাহার পাতাগুলি হায় কেটেছে আধেক করে।
লঙ্কর আজ বৃদ্ধ হয়েছে, চলে লাঠিভর দিয়ে,
হনু তনু তারা ঘুমায়েছে গায়ে গোরের কাফন নিয়ে।

সারা গ্রামখানি থম থম করে স্তব্ধ নিরালা রাতে;
বনের পাখিরা আছাড়িয়া কাঁদে উতলা বায়ুর সাথে।
কিসে কি হইল, কি পাইয়া হায় কি আমরা হারালাম,
তারি আফসোস শিহরি শিহরি কাঁপিতেছে সারা গ্রাম।
ঝিঁঝিরা ডাকিছে সহস্র সুরে, এ মূক মাটির ব্যথা,
জোনাকী আলোয় ছড়ায়ে চলিছে বন-পথে যথা তথা।

রহমত বরকত নাযাতের মাস রমজান
নাসির হেলাল

হিজরী সনের সর্বাধিক, সম্মানিত, সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ, সর্বোত্তম ও বরকতময় মাস হলো রমজান মাস। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তে রহমত-বরকত আল্লাহর পক্ষ থেকে তার সৃষ্টির জন্য আসমান থেকে অবিরল ধারায় নামতে থাকে। রহমত, বরকত, মাগফেরাতের এ মাস। এ মাসটিতে রয়েছে মুমীনদের জন্য সিয়ামের মত মহানিয়ামতপূর্ণ ইবাদত। এ মাসেই নাজিল হয়েছে মানবতার মুক্তিসনদ আল কুরআন। এ মাসে রয়েছে সেই মহিমান্বিত রজনী যে রজনী কিনা হাজার মাসের থেকেও উত্তম। তাছাড়া সিয়ামের মধ্যে রয়েছে ইফতার, সেহরী, তারাবীহ ইত্যাদির মত বরকতপূর্ণ সব বিষয়। অন্যদিকে সিয়াম পালনের মাধ্যমে আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ প্রভৃতি অনুশীলন বা সাধনায় আত্মনিয়োগ করার মহাসুযোগ।
রমজান মাস শুরুর আগ থেকেই অর্থাৎ মধ্য শাবান থেকে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে সাজসাজ রব পড়ে যায় রমজানকে স্বাগত জানানোর জন্য। মুসলিম দেশগুলির কর্ণধারগণ আগ থেকেই সতর্ক হয়ে যান বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে। যেন রমজান মাসে দ্রব্য মূল্য অস্বাভাবিক না হয়ে যায়, খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ ঠিক থাকে ইত্যাদি বিষয়ে। আমরা দেখতে পাই সাধারণ মানুষ-জনের মধ্যে এক ধরনের নমনীয়তা কমনীয়তা বিরাজ করে। সমাজে শান্তির একটা ফল্গুুধারা বইতে থাকে। ‘রোযা’ শব্দটি আরবী ভাষার শব্দ নয়। এটি ফারসী শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ উপবাস। এর আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘সাওম’। যার আভিধানিক অর্থ বিরত রাখা, বারণ করা বা ফিরিয়ে রাখা। শরীয়তের পরিভাষায়, ‘সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে কোনো প্রকার পানাহার এবং যৌনাচার থেকে বিরত থাকার নাম সাওম বা রোযা।’
‘আরবি বছরের নবম মাস হল পবিত্র রমজান মাস। ‘রমজান শব্দটি আরবি ‘রমজ’ ধাতু থেকে গৃহীত হয়েছে। ‘রমজ’ শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে, ক. রমজ অর্থ জ্বলন বা দহন। একজন রোজাদার রোজা রাখার কারণে ক্ষুধার তীব্রতায় পেট জ্বলতে থাকে, তাই বলা হয় রোজাদার দগ্ধ হয়। খ. আরবি ‘আররামাদাউ’ শব্দের অর্থ উত্তাপের তীব্রতা। আরবি মাসের নাম নির্ধারণকালে যে মাসে সূর্যের তাপ প্রখর ও তীব্র হয়েছিল সে মাসের নামকরণ করা হয়েছে ‘রমজান’। গ. এই মাসের নেক আমলসমূহ বান্দার গুনাহখাতা জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দেয়, তাই এই মাসের নামকরণ করা হয়েছে রমজান। ঘ. যেমনিভাবে সূর্যের তাপে বালুকারাশি উত্তপ্ত হয়ে থাকে, তেমনি এই মাসে সৎ উপদেশ বাণী শ্রবণে ও পারলৌকিক চিন্তা ভাবনায় বান্দার হৃদয় উত্তাপ ও উচ্ছ্বাস গ্রহণ করে থাকে। তাই এই মাসকে রমজান মাস বলা হয়’। (কুরতুবী; উদ্ধৃত: সিয়াম ও রমজান মুহাম্মদ আবু তাহের সিদ্দিকী সম্পাদিত, পৃ. ৯৯) রোজা উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর ফরয করা হয়েছে। অবশ্য পবিত্র কুরআন থেকে জানা যায় আমাদের পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতের উপরও রোজা ফরয ছিল। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের ঘোষণা-
‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও ফরয করা হয়েছিল। সম্ভবত: এর ফলে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে।’ (বাকারা: ১৮৩ আয়াত)
উক্ত আয়াতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’।
তাকওয়া: ‘তাকওয়া’ শব্দটি আরবি। এর আভিধানিক অর্থ হলো সাবধানী বা সতর্ক হওয়া, ভয় করা, পরহেজ করা, বেঁচে চলা ইত্যাদি। শরীয়তের পরিভাষায় তাকওয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘আল্লাহ তা’আলার প্রতি শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয়ে এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সুন্নাহ বা পদ্ধতি অনুসারে কোনও নিষিদ্ধ ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে ‘মনের স্বত:স্ফূর্ত প্রবল ইচ্ছা’। আর যার মধ্যে তাকওয়া গুণ বর্তমান আছে তিনিই হলেন মুত্তাকী।
তাকওয়ার বিষয়ে বলতে গিয়ে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বলেছেন, ‘তাকওয়ার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করা, তার নাফরমানী না করা, আল্লাহকে স্মরণ করা, তাকে ভুলে না যাওয়া এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ও তার কুফরী না করা।’ (সাপ্তাািহক আদ্দাওয়াহ, ১০-২-১৯৯৪, সৌদি আরব)
অন্যদিকে ওমর বিন আবদুল আযীয র. এ বিষয়ে বলেছেন, ‘দিনে রোজা রাখা কিংবা রাতে জাগরণ করা অথবা দু’টোর আংশিক আমলের নাম তাকওয়া নয়। বরং তাকওয়া হচ্ছে, আল্লাহ যা ফরয করেছেন তা থেকে দূরে থাকা। এরপর আল্লাহ যাকে কল্যাণ দান করেন সেটা এক কল্যাণের সাথে অন্য কল্যাণের সম্মিলন।’
আমাদের দেশে তাকওয়ার ব্যাপারে অনেক ভুল বুঝাবুঝি আছে। কিছু লোক আছে যারা ইসলামের ফরয, ওয়াজিব ও হারাম কাজ সম্পর্কে ভালভাবে ওয়াকিফহাল নন, তারা বিশেষ কিছু সুন্নত ও নফল কাজ করে নিজেদেরকে মোত্তাকী এবং অন্যদেরকে মোত্তাকী নয় বলে মনে করেন।
তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের অগণিত ফরয-ওয়াজিব রয়েছে যেগুলো তারা পালন করেন না এবং সেগুলোর খবরও রাখেন না। যেমন, পর্দাহীনতা, সুদ, ঘুষ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের প্রতিরোধ, দাওয়াতে দ্বীন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ইত্যাদি পালনের ব্যাপারে তারা উদাসীন।
তারাবী: ‘তারাবী’ অর্থ বিশ্রাম করা। দীর্ঘ কেরাত ও অধিক রাকাত আছে এ নামাজের মধ্যে। এ নামাজের মাঝে বিশ্রাম নিয়ে আবার পড়তে হয় বলে একে তারাবী বলে। প্রতি চার রাকাত দীর্ঘ নামাজের পর বিশ্রাম নিতে হয়। ইমাম মালেক ছাড়া অন্যান্য ইমামগণ সকলেই তারাবী নামাজ ২০ রাকাত বলেছেন এবং সে মত আমল করেছেন তবে ৮ রাকাত ১২ রাকাত এসব মতও আছে।
তারাবী নামাজকে সালাতুল কেয়াম বলা হয়। অবশ্য তাহাজ্জুদসহ রাতের নফল, সুন্নাত প্রভৃতি নামাজ ও কেয়ামুল লাইল-এর অন্তর্ভুক্ত।
এ নামাজ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে সালাতুল কেয়াম পড়ে আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেন। (বোখারী ও মুসলিম)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘আল্লাহ তার অতীত ও ভষ্যিতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেন’। (বোখারী ও মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ (সা) আরো বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরয করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য রমজানের সালাতুল কেয়ামকে সুন্নাত করেছি। যে রমজান মাসে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে রোজা রাখে ও সালাতুল কেয়াম আদায় করে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। নাসাঈর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘তারা সদ্য নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।’ (তিরমিযী নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনু মাজা)
সেহরী: ‘সেহরী’ উর্দু ভাষার একটি শব্দ। বাংলা ভাষায় শব্দটি বহুল প্রচলিত। রোজা রাখার জন্যে ভোর রাতে যে খাবার খাওয়া হয় আরবী ভাষায় তাকে ‘সুহুর,’ ‘সাহুর’, বা ‘সাহার’ বলে। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদেকের আগে যে হালাল খাদ্য গ্রহণ করা হয় তার মধ্যে অনেক সওয়াব, কল্যাণ ও বরকত রয়েছে। হযরত আনাস ইবন মালেক রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘তোমরা শেষ রাতের খানা খাও। তাতে বরকত রয়েছে।’ (বোখারী-মুসলিম)
অন্যত্র হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও ফেরেশতারা সেহরী গ্রহণকারীর জন্য প্রার্থনা করেন।’ (তাবারানী ও ইবনে হিব্বান)
আহলে কিতাবরাও রোজা রাখে কিন্তু তারা সেহরী খায় না। এ বিষয়টি আমাদের ও তাদের মধ্যে পার্থক্য হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সা) উল্লেখ করেছেন। আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেছেন আমাদের এবং আহলে কিতাবের মধ্যে পার্থক্য হলো সেহেরী খাওয়া। আর আমাদের তো প্রভাত উদয়ের আগ পর্যন্ত পানাহারের অনুমতি রয়েছে। (মুসলিম)
সেহেরী খাওয়ার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্বন্ধে বলতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘ তোমরা দিনে রোজার জন্য সেহরী খাবারের সাহায্য নাও এবং রাতে নামাযের জন্য দুপুরে নিদ্রাবিহীন বিশ্রাম গ্রহণ কর।’
সেহরী ত্যাগ না করা জন্য রাসূলুল্লাহ সা. জোর দিয়ে বলেছেন, ‘এটা বরকতময়, আল্লাহ তোমাদের তা দান করেছেন, তোমরা তা ত্যাগ করো না।’ (নাসাঈ)
সেহেরী খাওয়ার মধ্যে বিশেষ বরকত নিহিত। হযরত সালমান রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘তিন জিনিসে বরকত রয়েছে। সেগুলো হলো, জামাআত, সায়ীদ নামক খাবার ও সেহেরী।’ (তাবরানী)
সেহেরী খাওয়ার ফযীলত সম্বন্ধে বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘খাবার হালাল হলে তিন ব্যক্তির খানায় কোন হিসাব নেয়া হবে না, ইনশাআল্লাহ।’ ১. রোযাদার; ২. সেহেরী বা শেষ রাতের খাবার গ্রহণকারী এবং ৩. আল্লাহর পথের মুজাহিদ বা সৈনিক।’ (বাযযার)
সেহেরী খাওয়ার সময়ের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা নিজেই বলেছেন, তোমরা সেই পর্যন্ত পানাহার করো যে পর্যন্ত না রাতের কালো রেখার বুক চিরে সোবহে সাদিক বা প্রভাতের সাদা রেখা পরিস্কার ফুটে উঠে এবং রাত পর্যন্ত সিয়াম পালন করো।’ (সূরা বাকারা: ১৮৭ আ)
ইফতার: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা দিন সাওম পালন করে সূর্যাস্তের পর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের নাম ইফতার। সূর্যাস্তের পরপরই ইফতার করা সুন্নাত। এ ব্যাপারে হযরত আবু হোরায়রা থেকে বর্নিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, ‘আমার কাছে সে ব্যক্তি অতি প্রিয় যে তাড়াতাড়ি ইফতার করে।’ (তিরমিযী, ইবনে খোযায়মা ও ইবনে হিব্বান)
আবু হোরায়রা রা. থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘দ্বীন ততক্ষণ জয়ী থাকবে যতকাল লোকেরা শীঘ্র ইফতার করবে। কেননা ইহুদী ও নাসারাগণ দেরীতে ইফতার করে।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজা)
সাহল বিন সা’দ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে পর্যন্ত লোকেরা অবিলম্বে ও দ্রুত ইফতার করবে, সে পর্যন্ত তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে। (বোখারী ও মুসলিম)
ইফতার কি দিয়ে করতে হবে সে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘তোমরা খেজুর দিয়ে ইফতার করো, কেননা তাতে বরকত রয়েছে। যদি খেজুর না থাকে তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করো। পানি পাক ও পবিত্র।’
রাসূলুল্লাহ সা. নিজেই ইফতার করতেন কি দিয়ে সে বিষয়ে হযরত আনাস রা. বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ সা. আধা-পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। আধা-পাকা খেজুর না পেলে শুকনা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাও না পেতেন, তাহলে কয়েক অঞ্জলি পানি দিয়ে ইফতার করতেন।’
অন্য রোজাদারকে ইফতার করানোতে রয়েছে বেশুমার ফজিলত। যায়েদ বিন খালেদ রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় তার জন্যে রয়েছে ঐ রোজাদারের সমান সওয়াব। তবে ঐ রোজাদারের সওয়াব থেকে কোন কিছু ঘাটতি হবে না।’ (আব্বাস ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, তিরমিযী)
হযরত সালমান ফার্সী রা. থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘ যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায়, তার গুনাহ মাফ হয় এবং দোযখ থেকে নিজ গর্দান মুক্ত হয়, তার জন্য রোজাদারের সমান সওয়াব রয়েছে। তবে রোজাদারের পুরস্কার থেকে কোন কিছু হ্রাস করা হবে না। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! রোজাদারকে ইফতার করানো সামর্থ আমাদের প্রত্যেকের নেই। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে একই সওয়াব দেবেন যিনি এক চুমুক দুধ, একটু খেজুর কিংবা পানি দিয়ে কাউকে ইফতার করান। যে ব্যক্তি রোজাদারকে পানি পান করায় আল্লাহ তাকে আমার হাউজ থেকে পানি পান করাবেন এবং বেহেশত প্রবেশ করা পর্যন্ত সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।’ (ইবনে খোযায়মা)
আমরা ইফতার করার সময় যে দোয়া পড়ি তা হলো- ‘হে আল্লাহ! আমি কেবলমাত্র তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং কেবলমাত্র তোমার প্রদত্ত রিজিক দিয়েই ইফতার করছি।’ (আবূ দাউদ)
শবে কদর: শবে কদর অর্থ হচ্ছে সৌভাগ্য রজনী। এখানে শব ফার্সী শব্দ অর্থ রাত এবং কদর আরবী শব্দ যার অর্থ ভাগ্য বা তাকদীর। অবশ্য এর অর্থ হলো-মর্যাদা ও সম্মান।
মহান রাব্বুল আলামীন কালামে পাকে এ রাতের ব্যাপারে বলেছেন, ‘আমরা এই কোরআনকে এক বরকতময় ও মর্যাদাসম্পন্ন রাতে নাযিল করেছি। কারণ আমরা লোকদেরকে সতর্ক করতে চেয়েছিলাম। এই রাতে সকল বিজ্ঞ ও হেকমতপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করা হয়।’ (আদ দুখান: ৩-৪ আ)
অন্য সূরায় এ রাতের ইবাদতকে এক হাজার মাসের ইবাদতের চাইতেও উত্তম বলা হয়েছে-‘আমরা কদরের রাতে এই কোরআনকে নাযিল করেছি। তুমি কি জান কদরের রাত কি? কদরের রাত হাজার মাসের চাইতেও উত্তম। এই রাতে আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতা ও জিবরীল আ. দুনিয়ায় সকল কল্যাণকর জিনিস নিয়ে অবতীর্ণ হয় এবং সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত সারা রাত ব্যাপী শান্তি ও রহমত বিদ্যমান থাকে। (সূরা কদর)
কদরের রাতের ফযিলত সম্বন্ধে হযরত আবু হোরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘ যে কদরের রাতে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে নামায পড়ে, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (বোখারী, মুসলিম)
এমন কি অন্য বর্ণনায় আছে, ‘ভবিষ্যতের সকল গুনাহও মাফ করে দেয়া হয়।’
অন্যত্র রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘ যে কদরের রাতের অণে¦ষণে সেই রাতে নামাজ পড়ে এবং পেয়ে যায়, তার অতীতের ও ভবিষ্যতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (নাসাঈ)
কুরআন নাযিলের বিষয়ে বিষেজ্ঞদের মধ্যে দু’টি মত দেখা যায়। এর মধ্যে একটি হল ইবনে আব্বাস রা. এর মত। তিনি বলেন, ‘কুরআন লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত আছে। সেখান থেকে কদরের রাতে দুনিয়ার আসমানে পূর্ণ কুরআন নাযিল করা হয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন মোতাবেক আয়াত ও সূরা নাযিল হয়েছে।’
এখলাসের মাস রমজান: শুধুমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি ও পরকালের মুক্তির উদ্দেশ্যে নেক আমল করার নাম এখলাস। আর এই এখলাস-সকল প্রকার ইবাদত, আনুগত্য ও নেক কাজ কবুলের পূর্ব শর্ত।
এজন্যেই রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও কেবলমাত্র সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে রমজানের রোজা রাখে, আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেন।’ (বোখারী ও মুসলিম)
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মোখলেস লোকদের সম্বন্ধে বলেন, ‘যারা তওবা করে, সংশোধন করে, আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে এবং নিজেদেরকে দ্বীনকে এখলাস ও নিষ্ঠাপূর্ণ করে, তারা মোমিনদের সাথে রয়েছে। আল্লাহ শীঘ্রই মোমিনদেরকে মহান বিনিময় দান করবেন। (সূরা নিসা: ১৪৬ আ)
অনেক হাদীসে এখলাসের ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি একমাত্র ও লা-শরীক আল্লাহর উপর এখলাসসহ নামাজ কায়েম ও যাকাতের উপর দুনিয়া ত্যাগ করে আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট। (ইবনে মাজাহ, হাকেম)
দাহহাক বিন কায়েস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, ‘হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের আমলকে এখলাস ও নিষ্ঠাপূর্ণ করো। আল্লাহ এখলাস ছাড়া কোন আমল কবুল করেন না।’ (নাসাঈ)
ইখলাস ছাড়া আমল যেহেতু কবুল হবে না সেহেতু ইখলাস সহকারে আমল করাই বাঞ্ছনীয়। আর সে ক্ষেত্রে রমযান মাস হলো উপযুক্ত সময়।

ক বি তা ও ছড়া

যে চায় সহজ পথ
নয়ন আহমেদ

যে চায় সহজ পথ-
তাকে বলি, সূর্যোদয় হও;
আলো হও, প্রভাদীপ্ত হও।

সংশয়ে পাবে না প্রেম;
জীবন পাবে না।
কোনো রঙ উৎসব হবে না।
মুখর হবে না যাপন।

বস্তুত, দোলা দেবে মৃত্যুর কাফন;
গোলাপ পাবে না।

যে চায় সহজ পথ-
তাকে বলি, যাও-
গোলাপের সমাবেশে;
পাখিদের সুরেলা বৈঠকে।
পড়ো মধুবর্ষী ভাষা
পড়ো প্রেমময় ভাষা;
কী আবেগে মুয়াজ্জিন পাখিদের ডাকে-!
কী ভাষায় প্রত্যহ দেয় ইকামত।
মুনাজাত করে।

যে চায় সহজ পথ
তাকে বলি, হৃদয় বিছাও।

ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে
আহমদ বাসির

ক্ষুধা আমাদের অবসন্ন করে তুলেছে
তৃষ্ণায় আমরা কাতর
আমাদের সামনে সাজানো রয়েছে আরবের খোরমা
রুহ আফজার রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে সবগুলো গ্লাস
আঙুর, আনার, আপেল, কলা ও কমলার কোষ
ছোলা, মুড়ি, পিঁয়াজু, বেগুনি, আলু ও সবজির চপ
হালিমের গরম বাটি থেকে উড়ে যাচ্ছে ধোঁয়া
ক্ষুধা আমাদের পেটে লক্ষ লক্ষ সুঁচ বিঁধে দিচ্ছে
তৃষ্ণায় আমাদের কন্ঠনালী কাঠ হয়ে যাচ্ছে
তবু আমরা কোনো পানীয় বা খাবারের দিকে
হাত বাড়াচ্ছি না

না, কেউ আমাদের বন্দি করে রাখেনি
হাত-পা বেঁধে রেখে
আমাদের দিকে মারণাস্র তাক করে কেউ বলেনি-খবরদার!
যতোই তোমরা ক্ষুধার্ত হও, যতোই তৃষ্ণার্ত হও
পানাহার নিষিদ্ধ তোমাদের জন্য
না কোনো হায়েনার মতো সন্ত্রাস
না কোনো ভয়ংকর দৈত্যের মতো দখলদার
না কোনো পৈশাচিক আধিপত্যবাদ
কেউ না
কেউ আমাদের পানাহার বন্ধ করতে পারে না

এ কেবল আপনারই নিরুপম নিষেধাজ্ঞা
এ কেবল আপনার প্রতি আমাদের নিঃশঙ্ক নিঘ্নতা
আর আমাদের প্রতীক্ষা কেবল
আপনার মহিমাকীর্তনকারী মুয়াজ্জিনের দরাজ দমকের
-আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার !
ধ্বনিত হওয়া মাত্রই আমরা
পরিবেশিত পানীয় ও খাবারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিবো
প্রভু, আপনারই সন্তুষ্টি হোক আমাদের সন্তুষ্টি।


সিয়াম পালন
জানে আলম

সিয়াম পালন করো তুমি
সুস্হ সবল রবে
এই জীবনে জেনো তোমার
পুণ্য অনেক হবে।

সংযমেতো জীবনটা হয়
শুদ্ধ পরিপাটি
মেধা মনন সকল কিছু
হয়ে উঠে খাটি।
তোমরা যারা চাও ফোটাতে
শিল্প বোধের ফুল
মানবতার প্রকাশ যাদের
লক্ষ্য হলো মূল
তাদের জন্য সিয়াম আরো
বেশি উপকার
সিয়ামকে তাই অবহেলা
আর করো না আর।

ভুঁড়িভোজ
শাহিদ উল ইসলাম

রোজ রোজ ভুঁড়িভোজ
ইফতার
রোজা নেই ভাবখানা
রোজদার।
এইভাবে যায় দিন
রোজা মাস
আমলের খাতা খালি
সর্বনাশ।
পাপগুলো মগজেতে
কামড়ায়
দোযখের আগুন যেন
চামড়ায়।
তবু আশা তুমি আছো
বিশ্বাস
ঈমানী হালতে যায় যেন
নিশ্বাস ।

খাঁটি মানুষ দরকার
সুমন রায়হান

রোজার মাসে সওয়াব বেশি
কেউ কি এটা কম জানে
তবু কেন দাম বেড়ে যায়
সব কিছুর এই রমজানে?
মোবাইল কোট ভেজাল পেয়ে
দিল জেল ও জরিমানা
লোক দেখানো উপবাসের
আয়োজনে করি মানা।
বণিক তোমার লোভোর ফাঁদে
কষ্ট করে রোজাদার
তুমি আবার খুঁজে বেড়াও
বেহেস্থেরই সোজা দ্বার?
আইন করে মামলা ঠুকে
ভেজাল রোধে সরকার
খাঁটি জিনিস পেতে হলে
খাঁটি মানুষ দরকার।


মাহে রমাদান
রেদওয়ানুল হক

আহলান সাহলান
মাহে রমাদান
এলো এলো ফিরে সেই
মুক্তির সমাধান।

এলো এলো কোরআনের
আলোকিত ভোর আনের
স্বস্তির সুস্থির-
চির সুখ, ক্ষমা দান।

আহলান সাহলান
মাহে রমাদান
এসো এসো সালাতে
সত্যের মালাতে
নত হয়ে তাঁর কাছে
করি নেক জমা দান।

হক যেটা গরিবের
বক্স খুলে করি বের
খুশি মনে দেই তুলে
নয় কোনো কমা দান।

আহলান সাহলান
মাহে রমাদান
দিবসের পানাহার
লোভাতুর নানা হার
ভুলে গিয়ে আল্লাহর
গাই তবে সেরা গান।

আহলান সাহলান
মাহে রমাদান।।

রোজার গান
তাজ ইসলাম

ও রোজাদার সারা দিবস
উপোস থাকার পর
দুর হল কি? মনের ময়লা
সাফ হল অন্তর,
যদি তা না হয়
তবে রয়েছে সংশয়
ঐ রোজাতে জান্নাতে
মিলবে কিনা ঘর।

মন্দ স্বভাব মন্দ বিষয়
বাদ দিতে পেরেছ?
অন্যায় এবং অবিচারের
স্বভাব কি ছেড়েছ?
ও রোজাদার তোমার কাছে
সমান হল? আপন পর।

যদি তা না হয়
তবে রয়েছে সংশয়
ঐ রোজাতে জান্নাতে
মিলবে কি না ঘর।

ও রোজাদার রাখছ রোজা
পাপ ছেড়েছ কিনা
হাতের গোনা পায়ের গোনা
চোখের যত যিনা!
যদি তা না হয় তবে
রোজায় কি লাভ হবে?
এই রোজাতে সহজ তোমার
হবে না হাশর!

রোজার শিক্ষা তোমার দিলে
শক্ত করে রেখ,
রোজা ছাড়ার পরেও ওভাই
রোজাদারই থেক।
রোজার গুনে গুনাম্বিত
করিও অন্তর।
যদি তা না হয়
তবে রয়েছে সংশয়,
ঐ রোজাতে জান্নাতে
মিলবে কি না ঘর!

তোমার নামে
সাইফ আলি

গাছের পাতারা জপে তছবি তোমার
ঝর্ণা নদীরা বয় তোমারই নামে
বৃষ্টির ফোটাগুলো ছন্দ তোলে
তোমারই শানে প্রভু তোমারই নামে
তোমারই নামের শুধা পিয়ে পাখিরা
মধুর কণ্ঠে তোলে গান
তুমি রহমান তুমি রহমান।।
রাতের আঁধার নামে তোমারই শানে
তারার ফুলে থাকে আচল ভরা
স্নিগ্ধ চাঁদের সাথে জিকির তোলে
তোমারই নামে গোটা বসুন্ধরা।।
তুমি তো মহা মহিয়ান…
দিনের আলোয় খুঁজি তোমারই দয়া
যেভাবে পাখিরা যায় শূন্য ঠোঁটে
সন্ধ্যায় ফিরে আসে তৃপ্ত পাখি
তোমারই প্রেমে প্রভু জিকির ওঠে।
সবচে মধুর সেই গান…


খেজুর সমাচার
ইসমাঈল মুফিজী

এবারের রমযানে খাও বেশি আজওয়া
জয়ী হও, করো জয় জীবনের গাজওয়া।
মরিয়ম হলো ভাই মায়েদের সম্বল
তাতে কিছু পাবে তুমি চির স্বাদ অম্বল।
কাজ-কাম ক্লান্তিতে কভু যদি হাঁপাবি
খেয়ে নাও তক্ষণ তিন পিচ শাফাবি।
গায়ে বল পেতে হলে খাও তুমি আম্বর
সারাদিন কাজ করো হাতে নাও হাম্বর।
শিশুদের মেধা যদি চাও তুমি বাড়াতে
মাদজল খেতে দাও জড়তারে সারাতে।

রমজান এলে
সাইফ জুয়েল

রমজান এলে মুমিন হৃদয়
পূর্ণ হয়
পাপ কালিমার পাহাড় কেঁপে
চূর্ণ হয়।

আমলনামায় বে-শুমারে
পুণ্য হয়
তাইনা দেখে সব আজাজিল
ক্ষুণ্ন হয়।

রমজান এলে অহর্ণিশি
পুণ্য হয়
ধীরে ধীরে পাপের খাতা
শূন্য হয়।।

এসে গেলো রমজান
আহমেদ খায়ের

এইতো নয়াচাঁদ হেসে গেলো
সেই সাথে এসে গেলো রমজান
তাইতো তনুমন দুলে গেলো
সেই সাথে খুলে গেলো রাইয়ান

অবিরাম প্রশান্তি নেমে এলো
সেই সাথে থেমে গেলো নিরাশা
অনাবিল আনন্দ বয়ে গেলো
সেই সাথে ক্ষয়ে গেলো দুরাশা।

অফার
দীদার মাহদী

দারুণ অফার দারুণ অফার
আসলো ঘরের দোরে,
এই অফারের সুযোগগুলো
নেয় না যেনো চোরে ৷

একটা নফল করলে পালন
ফরজ সমান নেকি,
করলে পালন একটা ফরজ
সত্তরে গুণ সেকি!

তিরিশ দিনের চলবে অফার
পুরো রমজান জুড়ে,
হয় না যেনো হাতছাড়া তা
এদিক সেদিক ঘুরে ৷

যে কোরআনের জন্য এ মাস
শ্রেষ্ঠ হলো তাকে,
সবাই শিখে দিই ছড়িয়ে
এই পৃথিবীর বাঁকে ৷

রমজান
ইসলাম তরিক

দাও খোদা বেড়ে দাও ঈমানের দৃষ্টি
রমজানের রোজাটা মুমিনের কৃষ্টি।
রহমতে পূর্ণ
পাপরাশি চূর্ণ
রমজানের ফলটা আহা বেশ মিষ্টি।।

রমজানের এই ডাকে সাড়া দেয় বুদ্ধ
মাসব্যাপী চলমান ঈমানী যুদ্ধ।
মুমিনের আমলে
পূণ্যের শ্যামলে
শয়তান হয়ে যায় ভয়াবহ ক্রুদ্ধ।।

পাপরাশি মুছে দিয়ে মুক্তির চেষ্টা
এই রোজা মিটে দিক আত্মিক তেষ্টা।
মন্দকে নাচাতে
আত্মাকে বাঁচাতে
রমজানে বেড়ে যাক ঈমানি বেশটা।।

রমজান মুমিনের রহমতলুব্ধের
রমজান মুনাফিকের অতিশয় ক্ষুব্ধের।
জীবনের যুক্তি
পরিমিত মুক্তি
ভেবে দেখো রমজান কতটুকু মুগ্ধের?