utsanga
৭ আগস্ট, ২০২০ | ১২:২৯

সাইফ আলি’র গীতিকবিতা

tesst

০১.
আসবে তুমুল ঝড়
তাই কাঁপছি থরথর,
শক্ত করে বানাও আমার
ঘর ও কারিগর।।
দরজা দিও লোহা কাঠের
জানলা দিও না,
উড়ো পাতার ময়লা আমার
মোটেও প্রিয় না।।
পয়সা পাতি দেবো যেনো
জমবে দুধে সর!
ফালতু লোকে বলবে কথা
কান দিয়ে কি ফল,
সত্যিকথা বলতে ওরা
হিংসুকেরই দল!
কিন্তু এ কি বা’পাশ বুকের
করলো কাবু কে,
ধরো ধরো ও কারিগর
আর যে পারিনে।।
দরজা না আর ছাদ দিও চোখ
বন্ধ হওয়ার পর।

০২.
জানি না গায়েব
রাখি না খবর বাতাসের
তবুও তাসের এই ঘর
ভাবি আশ্রয়!
সত্য তো এই পৃথিবী আমার
মঞ্জিল নয়।।
আমি এক মুসাফির পথ চলি হাজারো ভুলে
করি ফরিয়াদ দু’হাত তুলে-
‘প্রজাপতি ফাঁদ বাঁকে বাঁকে
নিখুঁত দৃষ্টি দিও চিনতে তাকে;
পার হতে সব বাঁধা ভয়।
তোমার করুণা ছাড়া কখনো জানি
এ পথে আসে না বিজয়।’
ফুলে ও ফসলে কেনো সুশোভিত করলে এমন
স্নায়ুর আয়েশে যদি ভোগবাদী হয়ে ওঠে মন
কি করে এড়িয়ে যেতে হয়,
কি করে তোমার আরো কাছে পেতে হয়
শিখিয়ে দিও দয়াময়।

০৩
একটা ছোট্টো পাতার বাঁশি
এক প্রহসন বুকে নিয়ে বাজছে নিরন্তর,
শূন্য ছাড়া কি আছে তার
বুকেরই ভিতর..।।
বাঁশির চোখে জল ধরে না
নেইতো আকাশ বাড়ি,
তারায় তারায় শব্দ বুনে
আন্ধারে সওয়ারি;
বাঁশি, বাজতে থাকে বাজায় তারে
নিপুণ কারিগর…
শূন্য ছাড়া কি আছে তার
বুকেরই ভিতর..।।
পরের সুরে গান ধরে সে
পরের দুখে পোড়ে,
শূন্য আকাশ জুড়ে বাঁশির
হাজার পাখি ওড়ে;
পাখি উড়াল শেষে ভিন্ন দেশে
বাঁধে নিপুণ ঘর,
বাজতে থাকে পাতার বাঁশি
পুড়িয়ে অন্তর।।

০৪
কেনো আজ এই চাঁদ
জোসনার ফুল হাতে
নগরের চোখে মুখে
ছিটালো বিষাদ?
কেনো ‘মৃত্যু’ শিরোনামে এলো সংবাদ…
পূর্ণিমা চাঁদ ছুঁয়ে আসলো নেমে
অমাবশ্যর তমঃ! এ কেমন রাত!!
ভুলগুলো আমাদের করো মার্জনা
দাও ভরে দাও খালি হাত।
সবরের ফুল বুকে করো গো আবাদ।।
গাফফার তুমি প্রভু তুমিই মালিক
ক্ষমা করে দাও আমাদের,
দাও ফিরিয়ে হাসি রূপালী চাঁদের
দাও ফিরিয়ে উম্মীদ আমাদের।
যদিও পাপের ভার পাহাড় সমান
তবুও তোমাকে ছাড়া ডাকিনি তো রব
আমাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না
মাফ করো সব গোনা সব।
এই আযাবের থেকে দাওগো আজাদ।।

০৫
সত্যের সন্ধানে ছুটে চলে যে
বিপদের মুখোমুখি হক বলে যে
তার হাত ধরে হোক আমার সকাল
তার সাথে হাঁটা যায় অনন্তকাল।।
যার চোখে প্রজাপতি স্বপ্নের দল
যার মুখে জেগে ওঠে রোদ ঝলমল
তার পায়ে পা মিলিয়ে সামনে চলি
আসুক যতই বাধা, ঢেউ উত্তাল।।
আছে কি তোমার কোনো বন্ধু এমন
যার আছে জ্ঞান আর সুন্দর মন।
লালসার কাছে যে পরাজিত হয়
মিথ্যার সাথে যার নিত্য পরিণয়
তার সাথে ওঠাবসা তার সাথে মিল
খুলে দেয় ভুল শত দরজার খিল।।
তাকে যদি বন্ধু করো, পুড়বে কপাল।

০৬
আঁধারে খুঁজতে ছায়া
হায় নিজেকে হারিয়ে বসে আছি,
বিপরীত স্রোতে ভেসে ভেসে
কিভাবে যাওয়া যায় কাছাকাছি?
আলোয় আলো এলো
তবুও এলোমেলো
ভাবনা নিয়ে গেলো দূরে,
পেলো না মধু মৌমাছি।।
কে যেনো মিহি সুরে
গাইছে রোদ্দুরে-
মেঘে মেঘে বেলা গেলো
গেলো সে ফিরে এলো না
আলোর দেখা পেলো না!
ভাঙলো ভুল হায়
গোধুলি এ বেলায়
তোমার দিকে চেয়ে আছি।।

০৭
ফেরি করে সুখ কিনেছি অসুক কিনেছি অনেক দামে
অট্টালিকার দলিল লেখেছি প্রজাপতি তোর নামে
তবু কেনো তুই ডানায় রাখিস ভর
প্রজাপতি তোর লাগবে না বুঝি ঘর?
প্রজাপতি তোর মন খারাপের দিনে
আমি অনেক অনেক গোলাপ আনবো কিনে!
আর যদি সুখ বৃষ্টিতে আসে জ্বর
চোখের ওপরে ঘন হয়ে ওঠে সর
প্রজাপতি তুই বুঝে নিস তোর ঘর।।
এতো আয়োজন বিফলে যাবে কি সব
শুনবি না তুই আত্মার কলরব?
প্রজাপতি তোর মখমল-ডানা মেলে
উড়ছিস তুই, আহা! কি ভীষণ ওড়া!
কোনোদিন যদি ভুল করে ফিরে আসিস
পেয়ে যাস এই শুনকো ফুলের তোড়া!
সেদিন কি তোর কাপবে গলার স্বর?

০৮
অনাবিল ভালোবাসা ঘিরে ছিলো তাই
বয়েছিলো চোখে নীল ধারা ঝরনার
শুকরিয়া আদায়ের হয়নি সময়
হায়! ক্ষমা করে দাও তুমি ওগো দয়াময়।।
হে প্রভু তুমি আমাকে
দিয়েছো এ শব্দের সুখ!
বিনয়ের বৃষ্টিতে ধুয়ে যাক নফসের
অযাচিত পাপ সমুদয়।।
পাতায় পাতায় যত শব্দের ফুল
তোমার জিকিরে যেনো থাকে মশগুল…
যা কিছু পেয়েছি আমি
নিজগুণে পাইনি কিছুই;
তোমারই উপহারে ভরেছে দু’হাত প্রভু
সেজদায় মজেছে হৃদয়।।

০৯.
পাখিটার পালকের রঙ ছিল লাল
আর ছিলো নীল নীল কথার মিছিল,
পাখিটা খাঁচায় ছিলো যত্নে আমার
স্বাধীনতা ভেঙে দিলো দরজার খিল।।
পাখিটা বলতে পারে আজ তার নাম
সাক্ষাতে দিতে পারে সালাম কালাম
পাখিটার মন যদি ভেঙে দেয় কেউ
সবুজ পাতারা নাকি করবে মিছিল।।
পাখিটার পাখনায় বাতাসের গান
উড়াল দিনের শত মুগ্ধ শ্লোগান
সে শ্লোগান রাজপথে ডাকে আমাকেও
বেঁচে থাকে তার চোখে আমার নিখিল।।

১০.
বুকের পরে রাখলে মাথা
যায় কি বোঝা মনের কথা,
যায় কি বোঝা মন কি চায়?
বুঝতে হলে মনের সাথে
এসো সখী মন মিলাই।।
লোক দেখাতে আঙ্গুল ছুঁলে
গায়না পাখি হাওয়ায় দুলে
চায় সে কেবল ছুটতে চায়,
বুকের পরে রাখলেই মাথা
যায় না বোঝা মন কি চায়।।
গাঁথা মালায় ঝুলতে থাকা
ফুলের কান্না শোনরে মন,
সখের পাখি খাঁচা ভাঙে
বুঝিস না তার আন্দোলন?
ঘরের মতো ঘর না পেলে
কারাগারের অন্ধ সেলে
ধুকে ধুকে জীবন যায়,
বুকের পরে রাখলেই মাথা
যায় না বোঝা মন কি চায়।।

বিষয়সমূহঃTags:

পরের সংবাদ

»