সৈয়দ সাইফুল্লাহ শিহাব
১৫ মার্চ, ২০১৯ | ০৪:০৪

সৈয়দ সাইফুল্লাহ শিহাব এর কবিতা

tesst

অন্ধকার

অন্ধকার, শিশুর মতো নিরপরাধ-সরল
তাকে গোসল করিয়ে রৌদ্রের ফতুয়া পরিয়ে দিন
দেখুন কেমন প্রসফুটিত গোলাপ হয়ে গেল
অন্ধকার মায়ের স্নেহের মতই নরম
অভিসারে ফুলের স্নিগ্ধতা দেয় অকাতরে
অপেক্ষায় থাকে ভোরের সজিব সিঁড়িতে
অন্ধকার, শান্তির প্রস্রবনে ঢোকার প্রথম দরোজা।

প্রিয় জীবন

বাঁশের সাকোর মতো শুয়ে থাকা্ এ জীবন
তার উপর পার হয়ে যাচ্ছে পথচারী সময়
মুখোমুখি নীল জোৎস্নার ছায়া
মুখোমুখি হরিণের চিত্রল মায়া
প্রেয়সীর কোমল ছোঁয়ার ফোয়ারা
কাঁধে নিয়ে বয়ে যাচ্ছে প্রিয় জীবন
বাম চোখে তুমুল অন্ধকার
ডান চোখে ঝুলে থাকা বিপাশার ঢেউ
আহা ! মায়াবী কস্তুরী এক
বয়ে নিচ্ছে প্রিয় জীবন
গোলাপী নেশার টানে রহস্যের গুহায় ঝাঁপ দিচ্ছে
প্রিয় জীবন ।

গণতন্ত্র এখন

স্বপ্নভূক এক দল কৃষক লাঙল চালায় উষর ভূমিতে
বদনার নল ভরে ঢালে কিছু জল মৃত্তিকার যৌবন ফেরাতে
আহা পাখিগুলো গাছের ডালে বসে –
কিচির মিচির হেসে ওঠে কৃষকের বোকামো দেখে
বর্ষার মৌসুম জুড়ে পৌষ – মাঘের দাপট
বৃষ্টি হীন ঋতুবতী দেশ আমার
অকাল প্রসবে ঢাকে মুখের সম্মুখ
কৃষকের নোনা জলে ফুটেনা কোন শস্যের ফুল
বহুদিন আসে না কোন জোয়ার স্বদেশের গাঙে
পদ্মা – যমুনা জলের বদলে তোলে হা হাকার ঢেউ
গ্রামে ও নগরে প্রতিদিন বাড়ে লেলিহান চিৎকার
প্রাসাদ থেকে কুড়েঘর যেন এক একটি কারাগার
গণতন্ত্র এখন, পৌষের রাস্তায় উদাম শরীরে ভিক্ষা করা বস্তির মলিন ছেলেটি,
কিংবা আামাদের গাঁয়ের পাশে বয়ে চলা ঝিরঝিরে মরা খাল।

(ৎ) খন্ডত আমাদের গৃহস্বামী

সুখের বাহন নাকি খন্ডতের (ৎ) মতো
দুঃখের বিসর্গ্ ছেড়ে দৌড়াতে দৌড়াতে স্টেশনে গেলে
টিকেট কাটার আগেই
চঞ্চল গাড়িটা হুইসেল বাজিয়ে ছুটে চলে দিগন্তের ঠিকানায়
মানুষেরা বড় ছুটোছুটি করে
তাইতো কাঠবিড়ালী বাসা বাধেঁ আমাদের জঙ্গলে
ছেলেরা মাঠ জুড়ে করে গোল্লাছুট খেলা
গোল্লাছুট খেলতে খেলতে কেউ পৌঁছে মঞ্জিলে
কেউ ছুট জল্লা !
খন্ডত আমাদের গৃহস্বামী
তারও কিছু দায় থাকে সুখের মাজারে
খাদিম যেমন আগলে রাখে
ওয়াকফ করা ভূ-ভাগ।

সিল্কের ঘুম

(আমার মরহুম পিতাকে, আল্লাহ্ তাঁকে জান্নাত দান করুন)
সে দিন আকাশে মেঘ ছিলো না
কিন্তু ব্যথার বৃষ্টি আমাকে ভিজিয়ে দিলো
একটি ঝড়ো বাতাস বুকের মাঝে
সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো খরস্রোতা নদে
কলার কাঁদির মতো আমি নুয়ে পড়লাম তার উপর
একটা পাখি খেলা করছিলো আকাশে
তার নরম পালক ছোঁব বলে এগিয়ে যাই
পাখিটা স্পর্শের আগেই উড়ে গেলো
মনোরম সুগন্ধ ছড়িয়ে
একটি সুগন্ধের দৈর্ঘ্য মেপে আমি
নিপুণ দর্জির মতো বুনে যাচ্ছি ইহকাল
আহা! সে সময় আমার পিতার চোখে
নেমে আসে সিল্কের ঘুম।

পূর্বের সংবাদ

«